শেখ সালাহ্উদ্দীন
চ্যাং মাছ রেগে বলে কাঁকড়া ও ব্যাঙকে—
‘বল দেখি পিছ থেকে মেরেছিলি ল্যাং কে?
শিকারটা আমার যে তাই গেল ফস্কে
এই অপকর্মের বল নিবি দোষ কে?’
পদ্মপাতায় বসা ব্যাঙ বলে, ‘আমি না
প্রয়োজন ছাড়া আমি পানিতেই নামি না—
আমার তো রুচি শুধু তাজা পোকা মাকড়ে
পেলে পরে জিব দিয়ে ধরে খাই হাঁ করে;
শান্তিটা ভালোবাসি, ল্যাং ট্যাং মারি না
ঝগড়া কি মারামারি আমি বাপু পারি না।’
কাঁকড়াটা বলে, ‘শোনো চ্যাং ভাই
আমার তো মজবুত ঠ্যাং নাই
বড়জোর দিতে পারি চিমটি বা খামচি
দেইনি তা, তবু দ্যাখো ভয়ে আমি ঘামছি।’
কাঁচা ঘুম ভেঙে গেলে ঝগড়ায়
ইয়া বড় ঢোঁড়াসাপ চোখ দুটো রগড়ায়;
ভালো করে দেখে ভাবে মনে মনে—আহা রে!
তিনটেই জুটে যাবে এ বেলার আহারে।
ঝগড়ার চেয়ে প্রিয় নিজ নিজ জান তো!
এ কথাটা চ্যাং ব্যাঙ কাঁকড়াও জানতো—
তাই সাপ এগোতেই মন্থর গতিতে
চ্যাং ব্যাঙ কাঁকড়াও কেটে পড়ে ঝটিতে।