মোম্বাসা থেকে রেলগাড়িতে নাইরোবি

মঈনুস সুলতান

 

মোম্বাসার রৌশন দীপ্ত বাজারের গলিগুঁজিতে হেঁটে হেঁটে

ভাজা মশলার সাথে নখে খুঁটে শুঁকি কমলালেবুর গন্ধ,

আসি ইস্টিশনে—তাকাই ময়ূরপ্রবণ বাসনায় ইতিউতি

কাফেলার চিহ্ন আঁকা শিশমহলের দুয়ার হয়নি তো বন্ধ;

 

রেলগাড়ি ডিঙিয়ে যায় সাব-সাহারার সফর নন্দিত সড়ক

কূপেতে একা বসে থাকি চুপচাপ—মনে ভাবনা অশেষ,

পুরাকালে চীনাদের যে বাণিজ্য জাহাজ ডুবেছিলো উপকূলে

তবে কি অদৃষ্টের জোরে পেয়ে যাবো তার ধ্বংসাবশেষ;

 

মাউ মাউ সম্প্রদায়ের দলছুট কোনো এক বিদ্রোহী মনে হয়

লালচে কাঁকড় মাটির মেঠোপথে ছায়ামূর্তির মতো হাঁটে

কেউ নথিভুক্ত করছে কি রাজ্যহারা মুচুঙ্গদের পরাজয়,

সূর্য আজ বাজাচ্ছে কিরণের বেহালা বৃশ্চিক রাশিতে

নেই কোনো বাদ্যযন্ত্র কূপেতে কোথাও—শিবরঞ্জনী রাগে

হিমাচলের তুষারে জ্যোত্স্না ছড়ায় চৌরশিয়ার বাঁশিতে;

 

জানালায় দ্রুত সরে যায় আমব্রেলা ফার্নের কাঁটাতরু

সাভানার বালুকাময় প্রান্তরে নোনা হাওয়ার শুশ্রূষা,

মাসাই তরুণেরা চরাচ্ছে পশমের চাদর পরা গরু,

চাকার ঝিকমিক শব্দে বাজে—নাইরোবি আজ কতদূর

চলমান পাহাড়ের ঢালেছনের গোলকুটিরে গড়া অচিনপুর।