কবি ও রমণী

সুমন রায়হান

 

রমণী কবিকে বললেন—

বাইরে থেকে ভেতরের রূপ স্পষ্ট দেখা যায় না!

ভেতরের রূপ দেখতে, ভেতরেই প্রবেশ করতে হয়।

বসন্ত বিকেল, কবি মাতাল মহুয়ার গন্ধ মেখে—

অঙ্গে জড়াচ্ছেন বৈরী বাতাস।

 

কবি ভেতরে আর রমণী বাইরে দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ছেন,

কপালে রাঙা টিপ, মাতাল মহুয়ায় আচ্ছন্ন রমণী বললেন—

নেবে আমায়? কবি বললেন যেও না কবির সাথে,

রমণী বললেন কেন?

কবি বললেন জানিনা, কবি কি চাইলেই নিতে পারে কাউকে!

কপালের রাঙা টিপ ধীরে ধীরে আরো রাঙা হয়ে উঠছে...

 

সন্তানের আজন্ম ঋণ বহন করা—

মাংসপেশীর মাঝখানে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী—

যেন সমুদ্রের বুকে গোধূলিময় সন্ধ্যার নিবিড় আলিঙ্গন।

রমণী হাত রাখলেন কবির হাতে,

অতঃপর হাজার বছরের অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবী

মুহূর্তেই আলোকিত হয়ে গেল।

তখনও কবি ভেতরেই ছিলেন,

রমণী ভেতরে প্রবেশ করে মাতাল মহুয়ার সৌন্দর্য

অবলোকন করলেন কি করলেন না, তা জানা গেল না!

 

সূর্যমুখীর বুকে ভোরের নরম রোদের চুম্বনরত মুহূর্তে

শুধু দেখা গেল—

দুরন্ত দোলনায় দুলে দুটি দোয়েল পার করছেন...

তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।