চকরিয়ায় বিভিন্ন খাল ও ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ

এম এইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে চিংড়িজোনের শাখা খালে এবার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে লবণাক্ত বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদের ছড়াখালে একই পদ্ধতিতে চলছে বালু উত্তোলন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ না জানলেও অবৈধভাবে বালি উত্তোলন খুটাখালির মানুষের কাছে ‘ওপেন সিক্রেটে’ পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর পক্ষে প্রশাসন বরাবর লিখিত একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে লবণাক্ত বালি উত্তোলনের ফলে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিরাট একটি অংশ। যে অংশে রয়েছে শত শত জনবসতি। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক-উপসড়ক। এসব এলাকায় রয়েছে হাজার হাজার মানুষের চলাচল। যার কারণে খুটাখালী তলিয়াঘোনা থেকে রাতদিন বালি উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ইউনিয়ন মেদাকচ্ছপিয়া তলিয়াঘোনা থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলনকৃত এসব বালু ডাম্পারের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। খুটাখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান (১) আবদুল আউয়াল বলেন, ছড়াখাল থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়নের গর্জনতলীর বাসিন্দারা জানায়, ইউনিয়নের তলিয়াঘোনা থেকে লবণাক্ত বালি উত্তোলন করে ভালো বালি মিশেয়ে পাচার করা হচ্ছে। এসব বালি বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যবহার করার জন্য অবৈধ ট্রাকের মাধ্যমে পাচার করায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামীণ ব্যাংকের রাস্তার মাথা থেকে মধ্যম মেধাকচ্ছপিয়া পর্যন্ত বেহাল। এতে ইউনিয়নের ৪, ৩, ২ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, খুটাখালী তলিয়াঘোনা থেকে কে বা কারা বালি উত্তোলন করছে সেটা আমার জানা নেই। তবে এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। কেউ প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি। কিছু দিন আগে বালু পরিবহণ ও রাস্তা নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।