স্পোর্টস রিপোর্টার
চলতি বছরে বাংলাদেশ দলের আর কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ নেই। ভারত সফর শেষে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও দেশে ফিরেছেন। ধীরে ধীরে ক্রিকেটাররা আবার মাঠমুখী হচ্ছেন। ক্রিকেটাঙ্গন সরব হচ্ছে আসন্ন বঙ্গবন্ধু বিপিএলকে কেন্দ্র করে। টুর্নামেন্টের সপ্তম আসরে দলগুলোর একাদশে থাকছে সাত দেশীয় ক্রিকেটার, চার বিদেশি ক্রিকেটার। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের দলগুলোর একাদশে তাই দেশীয় ক্রিকেটারের পাল্লাই ভারি হবে। দলের পারফরম্যান্সে তাই স্থানীয় ক্রিকেটারদের ভূমিকা থাকবে বেশ। টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করতে দেশীয় ক্রিকেটারদের ওপরই আস্থা রাখছেন ঢাকা প্লাটুনের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তার মতে, দলের সাফল্য নির্ভর করবে দেশীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের ওপর।
অভিজ্ঞদের মধ্যে মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, মুমিনুল হক, এনামুল হক বিজয়, শুভাগত হোমরা রয়েছেন ঢাকা প্লাটুনে। তরুণদের মাঝে পেসার হাসান মাহমুদ, অফস্পিন মেহেদী হাসান, উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জাকের আলী অনিকরা আছেন। বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে থিসারা পেরেরা, ওয়াহাব রিয়াজ, শহীদ আফ্রিদিকে দলে টেনেছে ঢাকা প্লাটুন।
সালাউদ্দিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স। বিভিন্ন বিভাগে তামিম-বিজয়দের জ্বলে ওঠার প্রতিই গুরুত্ব দিচ্ছেন ঢাকা প্লাটুনের কোচ। গতকাল সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘যদি পুরো টুর্নামেন্ট খেয়াল করেন দেখবেন একা কোনো খেলোয়াড় দাপট দেখায়নি। এটা একটা দলীয় খেলা, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয় খেলোয়াড়রা কেমন খেলছে তার ওপর আপনার দলের সাফল্য নির্ভর করছে। আপনি যতই বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে আসেন বাইরে থেকে ওরা মাত্র চার জন খেলবে। তার বাইরে সাতটা খেলোয়াড়ের ভূমিকাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
দেশীয় ভালো না করলে দলের ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘তাদেরকে (স্থানীয় খেলোয়াড়) যদি আপনি ঠিকমতো ব্যবহার না করেন, আপনার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমার মনে হয় স্থানীয় খেলোয়াড়রা যে সাত জন খেলবে তাদের কিন্তু ভালো করতেই হবে।’
মাশরাফি-তামিমদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা ঢাকা প্লাটুনের জন্য শাপেবর হবে বলেই আশা করছেন সালাউদ্দিন। ঢাকা প্লাটুনের কোচ গতকাল বলেছেন, ‘বড়ো প্লেয়ারের চাইতে আমি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নিয়ে বেশি ভাবি। অভিজ্ঞতাটাকে আমি আসলে বেশি গুরুত্ব দেই। মাঠে তো আমি খেলবো না, খেলবে প্লেয়াররা। তারাই সিদ্ধান্ত নিবে কখন কি করতে হবে। তো যত অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বেশি হবে তত আপনার জন্য সুবিধা। আমি মনে করি এটা আমাদের জন্য একটা সুবিধা।’
সালাউদ্দিনের ঝুলিতে আছে বিপিএলের দুটি ট্রফি। ২০১৫ ও চলতি বছরের শুরুতে বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ ছিলেন তিনি। পরীক্ষিত এই কোচ এবারও ঢাকা প্লাটুনের শিরোপা মিশনের মূল পরিকল্পনাকারী। সপ্তম আসরে নিজের দায়িত্ব বেড়েছে বলে মনে করেন সালাউদ্দিন।
তিনি বলেছেন, ‘যদি লোকাল কোচ হিসেবে বলেন তাহলে আমি বলব আমার দায়িত্ব কিছুটা বেড়েছে। কারণ অন্য সব দলেই হয়তো বিদেশি কোচ আসছে, যেহেতু আমি একাই লোকাল কোচ আমি যদি ভালো করি তাহলে অন্য লোকাল কোচ যারা আছে তাদের জন্যও সুযোগ আসবে। আর এ কারণে আমার ভালো করাটা খুব বেশি জরুরি।’
ঢাকা প্লাটুন:
তামিম ইকবাল খান, এনামুল হক বিজয়, হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান, আরিফুল হক, মুমিনুল হক, শুভাগত হোম, মাশরাফি বিন মুর্তজা, জাকের আলী অনিক (দেশি), থিসারা পেরেরা, লরি ইভান্স, ওয়াহাব রিয়াজ, লুইস রিচ, শহীদ আফ্রিদি (বিদেশি)।