শিল্পকলায় যাত্রা উত্সব

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যাত্রাশিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নানাবিধ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ‘যাত্রা শিল্পের নবযাত্রা’ শ্লোগান ধারণ করে যাত্রা-নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং কয়েক বছর ধরে শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক যাত্রাদল নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ইতিমধ্যে ১০টি পর্যায়ে ১১১টি যাত্রাদলকে নিবন্ধন দিয়েছে এবং বিভিন্ন অভিযোগে ১৫টি যাত্রাদলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার যাত্রাদল নিবন্ধনের লক্ষ্যে ১১তম যাত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এর পাশাপাশি ছিল আলোচনা সভা ও ‘যাত্রাশিল্পের নবযাত্রা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন। নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় দুদিন ধরে জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটারে যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে যোগ্য দলগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া হবে। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হলো ১১তম যাত্রা উত্সব। এই উত্সবে অংশগ্রহণ করা যাত্রা দলগুলো একদিকে যেমন গ্রামের যাত্রাপালার ঘ্রাণ দিয়ে মুগ্ধ করবে শহরকে একইসাথে নিজেদের পরিবেশনায় ভাল ফলাফলের মধ্য দিয়ে নিবন্ধিত হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে। একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে এই উত্সবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো. বদরুল আনম ভুঁইয়া। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, এসএম মহসিন এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আফসার আহমেদ।

উদ্বোধন ঘোষণা শেষে দীপ্তি যাত্রাদল মঞ্চে নিয়ে আসে তাদের পরিবেশনা ‘সাগর ভাসা’।

একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আজ শুক্রবারও জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে যাত্রাপালা মঞ্চালয়ন হবে। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন দলের যাত্রাপালা মঞ্চায়িত হবে। আর সকল যাত্রাপালাই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত।

অন্যদিকে লোকজ সুর, নৃত্য আর পালাগানে মুখরিত হলো অগ্রহায়ণের সকাল। দল বেঁধে সবাই গ্রাম্য মেলার মতোই মেতে উঠল নাগরদোলা আর চরকি ঘিরে ছিল পিঠা পুলির আয়োজন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘প্রাণ চিনিগুঁড়া চাল নবান্ন উত্সব’কে ঘিরে ছিল এমনই সব আয়োজন। সকালে প্রথম পর্বে মঞ্চে লোকজসংগীত পরিবেশন করেন কানন বালা সরকার, সরদার রহম উল্লাহ ও মীরা মণ্ডল। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সমস্বর। এইচ আর অনিকের নির্দেশনায় পথনাটক ‘আজব বাক্স’ মঞ্চস্থ করে চন্দ্রকলা থিয়েটার।

শিশুরা চড়ল নাগরদোলা, চড়ল চরকিতে। তার পর মালপোয়া, ভাপা, পুলি চিতই এমন হরেক রকমের পিঠার স্বাদ পেতে বাবা-মায়ের হাত ধরে তারা ঘুরে বেড়িয়েছে স্টলে স্টলে। নবান্ন উত্সবের সাংস্কৃতিক পর্বটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজুরুল ইসলাম চৌধুরী সুইট।

উত্সবের প্রথম দিনে দ্বিতীয় ভাগেও ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিকালে এই উত্সব প্রাঙ্গণে একক সংগীত পরিবেশন করেন অনিমা মুক্তি গোমেজ, অনিমা রায়, শ্যামল পাল, খায়রুল ওয়ার্সি। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সুরবিহার। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে গারো কালচারাল একাডেমি। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাসকুর-এ-সাত্তার-কল্লোল ও তামান্না তিথি। এদিন ছিল মানিকগঞ্জের মহুয়ার পালার পরিবেশনা। আজ শুক্রবার বিকালেও বসবে নবান্ন উত্সবের আয়োজন।