চলতি বছর প্রজনন মৌসুমে রেকর্ডসংখ্যক মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। ডিম ছাড়ার এই হার ৪৮ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা গত বছরের চেয়ে ১ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করে চলতি বছরের ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর মোট ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ মাছ ধরা, খাওয়া, মজুত, বিনিময় ও পরিবহনের ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ সময় বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে তিনটি গবেষক দল ইলিশ প্রজননক্ষেত্রসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও ইলিশ অবতরণকেন্দে গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণাকালে নিষিদ্ধ সময়ের পূর্বের ১০ দিন, নিষিদ্ধকালীন ২২ দিন এবং নিষিদ্ধ সময়ের পরে ১০ দিন নমুনায়ন ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায় যে চলতি বছরে ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা সময়ে ৪৮ দশমিক ৯২ ভাগ মা ইলিশ সম্পূর্ণভাবে ডিম ছেড়েছে, যা গতবারের চেয়ে ১ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয়, ডিম ছাড়ার এই হার এযাবত্কালের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৭, ২০১৬, ২০১৫ ও ২০১৪ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪৬ দশমিক ৪৭, ৪৩ দশমিক ৯৫, ৩৬ দশমিক ৬০ ও ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এতে ৩৭ হাজার কোটি জাটকা নতুন করে ইলিশ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। এসব জাটকা ৫ থেকে ৭ মাস নদ-নদীতে বড়ো হয়ে সাগরে চলে যাবে এবং সেখানে বড়ো হয়ে ডিম ছাড়ার জন্য আবার নদ-নদীতে চলে আসবে।
উল্লেখ্য, ইলিশ মাছ সারা বছরই কম-বেশি ডিম ছাড়ে। তবে এর সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম হচ্ছে অক্টোবর-নভেম্বর মাস। এটি মূলত আশ্বিন মাসের পূর্ণিমাভিত্তিক। এ কারণে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় বছর বছর পরিবর্তিত হয়। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, মা ইলিশ ও জাটকা ধরা বন্ধ রাখার কারণে এই মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৫ দশমিক ১৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে, যা এযাবত্কালের রেকর্ড। গত ১১ বছরে ইলিশের উত্পাদন ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে ড. ইয়াহিয়া বলেন, চলতি বছর মা ইলিশ সুরক্ষিত হওয়ায় উত্পাদন আরো বাড়বে।