চট্টগ্রাম কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন হানি ডিউ বা বারি চিনাল-১ নামের উচ্চ ফলনশীল ‘চিনাল’ ফল। অত্যন্ত পুষ্টিমান সমৃদ্ধ চিনাল ফল। সাধারণত বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি ঢালু জমিতে চাষাবাদ হয়ে থাকে এই ফল। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী সাধারণত তাদের জুম চাষের সাথে চিনাল চাষাবাদ করে থাকে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উদ্ভাবিত নতুন জাতের এই ‘চিনাল’ ফল দেশের সর্বত্র চাষাবাদ করা সম্ভব।
গত সেপ্টেম্বর থেকে মাত্র আড়াই মাসের মাথায় সমতল ভূমিতে চিনাল উত্পাদন সম্ভব বলে প্রমাণ করেছেন তারা। চট্টগ্রাম কৃষি গবেষণার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এএসএম হারুনুর রশিদ তার পার্বত্য অঞ্চলে ইতিপূর্বে কাজ করার সুবাধে সমতল ভূমিতেও কীভাবে চিনাল ফল উত্পাদন করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করেন। তারই তত্ত্বাবধানে বারি চিনাল-১ জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয় পাহাড়তলী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।
চিনাল গোলাকৃতি বা ডিম্বাকৃতির হয়ে থাকে। সাধারণত পাকা অবস্থায় এটি সোনালী হলুদ রঙের হয়ে থাকে। চারা রোপণের এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চিনাল কাঁচা ও কচি অবস্থায় সবজি বা সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। রান্না করলে শসার মতো মনে হয়। পাকা বড় ফলের ওজন ১৩শ’ থেকে ১৪শ’ গ্রাম হয়ে থাকে। পাকা ফল হিসেবে হালকা মিষ্টি এবং আঁশবিহীন। এর বীজ ছোট। পাতলা খোসাযুক্ত চিনালের খাদ্য উপযোগী অংশ প্রায় শতকরা ৮৫ ভাগ। প্রতিটি গাছ থেকে ৫/৬টি ফল হয়। গড় ফলন প্রতি হেক্টরে প্রায় সাড়ে ১৯ টন।
লতাগুল্ম জাতীয় চিনাল বীজ থেকে চারা জন্মানোর পর থেকে শাখা-প্রশাখা জন্মাতে থাকে। তাই এর ভারসাম্যের জন্য সীমসহ অন্যান্য সবজি গাছের ন্যায় মাচার উপর স্বাচ্ছন্দে থাকে। চিনাল মূলতঃ দেশের বহু চাষাবাদকৃত বাঙ্গীর একটি বিশেষায়িত প্রজাতি। তবে বাঙ্গীর সাথে এর পার্থক্য হলো পাকা অবস্থায় বাঙ্গীর ন্যায় ফেটে যায় না। চিনাল আলোক নিরপেক্ষ ফল হওয়ায় সারা বছর ফলন হয়।
ড. এএসএম হারুনুর রশিদ বলেন, দেশব্যাপী কৃষকদের মধ্যে চিনাল-১ জাত ছড়িয়ে দেয়া গেলে কৃষকরা সারা বছর ফলনের মাধ্যমে লাভবান হবেন। একই সাথে মানুষজন স্বল্প মূল্যে চিনাল রান্না কিংবা ফল হিসেবে খেতে পারবে।