ইয়াবা দিয়ে দুই যুবককে ফাঁসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন এএসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য ও তাদের দুই সোর্স। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও সখীপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী হতিয়া রাজাবাড়ি গালর্স স্কুল বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।
গণধোলাইয়ের শিকার পুলিশের ওই তিনজন সদস্য হলেন, বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রিয়াজুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও গোপাল সাহা স্বপন। গণধোলাইয়ের পর বিক্ষুব্ধ জনতা ওই তিনজন সদস্য ও তাদের দুই সোর্সকে আটকে রাখে। পরে মির্জাপুর ও সখীপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হতিয়া রাজাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন ও নাসির জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের সোর্স হাসানসহ দুই যুবক প্রথমে ঐ বাজারে গিয়ে ফরহাদ মিয়ার ছেলে বজলুর রশিদকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে পুলিশের দুই সোর্স মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রিয়াজুল ইসলাম ও কনস্টেবল গোপাল সাহা ও রাসেলকে জানায়। সোর্সের খবর পেয়ে একটি সিএনজি নিয়ে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিগারেট এর প্যাকেটের ভিতর ইয়াবাসহ মাদক দিয়ে অপর দুই যুবককে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। আশপাশের লোকজন তাদের সিএনজি ঘেরাও করে তিন পুলিশ ও দুই দলাল চক্রের সদস্যকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম এবং সখীপুর থানার ওসি(তদন্ত) লুৎফুল কবিরসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
আরও পড়ুন: বিএনপি এখনও চরমপন্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে: তথ্যমন্ত্রী
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) দীপংকর ঘোষ ও মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। ঘটনা প্রমানিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, মির্জাপুর পৌরসভা, উপজেলার ফতেপুর, জামুর্কি, মহেড়া, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, বাঁশতৈল, আজগানা, তরফপুর ও গোড়াই এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশের সোর্স ও এক শ্রেণীর পুলিশ সদস্য মাদক দিয়ে নিরীহ লোকজনকে ফাঁসিয়ে আসছে। পরে তাদের মামলার ভয় দেখিয়ে ও হয়রানি করে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছে অসৎ পুলিশ সদস্যরা। ভুক্তভোগীরা তাদের অভিযোগের ব্যাপারে সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এসএইচএম