দখলের কারণে সাভারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বংশী নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে। ঐতিহ্যবাহী এ নদী হারিয়ে ফেলেছে তার ছন্দ ও গতিপথ। নদীর দুই পাশের শত শত বিঘা জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে। সাভার ভূমি অফিস পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে অর্ধশতাধিক অবৈধ দখলদারের নাম। তালিকায় আছে স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নাম। কিন্তু দখলদারদের তালিকা হলেও অজ্ঞাতকারণে হচ্ছে না উচ্ছেদ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখের সামনেই এভাবে নদী-খাল দখল হলেও তারা দেখেও না দেখার ভান করছে। ফলে নদী দখল চলছেই। ভূমিদস্যু আর কতিপয় সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে চলছে এ দখল বাণিজ্য এমনই অভিযোগ সাভারবাসীর।
সাভার নামাবাজার এলাকায় বংশী নদীর তীর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক হাজার পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা। নদীর তীর ঘেঁষে কোথাও টিনের ঘর, আবার কোথাও কংক্রিটের ঢালাই আর ইটের গাঁথুনি দিয়ে বহুতল ভবন, দোকানপাট ও মার্কেট নির্মাণ করেছে দখলদাররা। বংশী নদীর উপর নির্মিত সাভার-ধামরাই সেতুর দুপাশও দখলে রেখেছে প্রভাবশালীরা। নয়ারহাট এলাকায়ও নদী দখলের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। নদীর পূর্ব-পশ্চিম দুপাশ ভরাট করে বালুর ব্যবসা করছে দখলদাররা।
সরেজমিন দেখা গেছে, কতিপয় ব্যক্তি বাজার এলাকার যেসব সরকারি জমিতে (খাস জমি) হাটের দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল খোলা বাজারে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করে থাকে, সেসব স্থান দখল করার পর ঘর তৈরি করে গুদাম বা নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। নদীর পাড় ঘেঁষে উত্তর বাজার থেকে দক্ষিণ বাজার পর্যন্ত প্রায় অর্ধকিলোমিটার এলাকার প্রায় ১০০ একর জমি দখল করে নিয়েছে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি।
সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, নদী দখল বন্ধ ও দখলদারদের উচ্ছেদে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হয়েছে। দখলদারদের তালিকা তৈরি হলেও কেন তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাভারের সভাপতি অধ্যাপক দীপক কুমার রায় বলেন, নদী উদ্ধারের জন্য ইতিপূর্বে একাধিক সভা সমাবেশ ও সেমিনার করে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যই নদ-নদী রক্ষা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইতিপূর্বে সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি ও চিহ্নিত করা হয়। ঐ তালিকা ধরে সবাইকে নোটিশও করা হয়েছে। দ্রুতই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।