মনোহরগঞ্জে কমছে বোনা আমন চাষ

ফসলি মাঠ হচ্ছে গোচারণ ভূমি!

আবদুল গাফফার সুমন, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে আশঙ্কাজনকহারে হ্রাস পাচ্ছে আমন চাষ। শত শত হেক্টর অনাবাদি ফসলি জমিতে জন্মেছে আগাছা। বছরের একমাত্র ফসল ইরি/বোরোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এখানকার চাষিরা। এ ধান চাষে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর কর্তৃক কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণ ও কৃষি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে চাষিদের মধ্যে ফিরে আসতে পারে সোনালি অতীত।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, শত শত হেক্টর ফসলি জমি পড়ে আছে অনাবাদি। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধানগাছের বদলে দখল নিয়েছে আগাছা। মাঝে-মধ্যে দুই-চারটি জমিতে বোনা আমন চোখে পড়লেও পানির অভাবে মুখ থুবড়ে আছে সেগুলোও। গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে ফসলি মাঠ। গত তিন দশক আগেও বোনা আমন চাষে এখানকার কৃষকদের আগ্রহ ছিল ব্যাপক। কেওড়া, গচ্চা, হিরবাইন, বটেশ্বর, তিলিবাজাল, বালাম, কাতিয়াশাইলসহ নানান প্রজাতির ধান বুনতেন এ এলাকার কৃষকরা।

আমন চাষের বিকল্প হিসেবে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় পতিত জমির পরিমাণ বাড়ছে। উপজেলার অন্তত ৩০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এবার এ এলাকায় ১ হাজার হেক্টর জমিতেও আমন চাষ হয়নি। লোকসান হওয়ায় কৃষকরা এ ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান চাষ না হওয়ায় বছর শেষে গোখাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার কথাও জানান তারা।

উপজেলার হাটিরপাড়  গ্রামের কৃষক এনায়েত উল্ল্যাহ জানান, বীজ বপন থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত হাল, বীজ ও মজুরি খরচ উঠাতেই হিমশিম খান এখানকার কৃষক। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ইঁদুরের উপদ্রব সব মিলিয়ে প্রাপ্ত ধানের দ্বিগুণেরও বেশি খরচ হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহানুর ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি ইত্তেফাককে জানান, অলাভজনক হওয়ায় এ ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ কমেছে। দীর্ঘ জলাবদ্ধতার কারণে এখানকার ফসলি জমিতে প্রচুর জলজ আগাছা জন্মায় যা বোনা আমন চাষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এবার এ এলাকায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বোনা আমন চাষ হয়েছে এমন দাবি করে তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন করে বোনা আমনের পরিবর্তে এ এলাকাকে উফশি রোপা আমন চাষের আওতায় আনা গেলে ফলন অনেকগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি পাট চাষ, ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করেও লাভবান হতে পারে কৃষক।