আমাদের দেশে সরকারি কাজে প্রায়শই নানা অসংগতির খবর দেখিতে পাওয়া যায়। কোথাও অবকাঠামো থাকিলেও দেখা যায়-নাই প্রয়োজনীয় লোকবল, আবার কোথাও লোকবল থাকিলেও দেখা যায়-নাই তাহাদের কাজ করিবার আনুষঙ্গিক অবকাঠামো। তবে পটুয়াখালী নদী ফায়ার স্টেশনের ঘটনা একটু ভিন্ন, সেইখানে ভবনসহ অবকাঠামো নির্মাণ ও লোকবল নিয়োগ দেওয়া হইলেও কেবল অগ্নিনির্বাপক নৌযানসহ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা না হওয়ায় উদ্বোধনের ছয় বত্সরেও চালু করা যায় নাই ফায়ার স্টেশনটি।
পটুয়াখালী দেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত নদী ও সাগরবেষ্টিত একটি জেলা। এই জেলায় অনেক জায়গা রহিয়াছে, যেইখানে সড়কপথে দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে সেই সকল জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে সময়মতো পৌঁছাইয়া আগুন নিভানো সম্ভব হয় না। ফলে এমন একটি জেলায় নৌপথে ফায়ার স্টেশন নির্মাণ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপের ফলে আশা করা হইয়াছিল স্বল্প সময়ের মধ্যে নৌপথে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হইবে; ইহাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটা কমিয়া যাইবে। কিন্তু এই পদক্ষেপ গত ছয় বত্সরেও কেন পূর্ণতা পাইল না, তাহা কর্তৃপক্ষকে খতাইয়া দেখিতে হইবে। সম্প্রতি গলাচিপার বাদুরা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ১৯টি দোকান পুড়িয়া নিঃশেষ হইয়াছে। হয়তো ফায়ার স্টেশনটি কার্যকর থাকিলে ক্ষতির পরিমাণ কমাইয়া আনা যাইত।
জানা গিয়াছে, ছয় বত্সর পূর্বে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে পটুয়াখালী জেলা শহরের লাউকাঠী নদীর তীরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়। নদীর তীরে অগ্নিনির্বাপক নৌযান ও রিভার অ্যাম্বুলেন্স নোঙর করিবার জন্য স্থাপন করা হয় পন্টুন ও জেটি। নিয়োগ দেওয়া হয় ১৩ জন লোকবল। ইহার মধ্যে রহিয়াছে স্টেশন কর্মকর্তা, লিডার, আট জন ফায়ারম্যান এবং অন্যান্য পদে আরো তিন জন কর্মচারী। অর্থাত্, স্টেশনটি চালাইবার মতো লোকবল সেখানে রহিয়াছে। কেবল অভাব অগ্নিনির্বাপক জাহাজ, রিভার অ্যাম্বুলেন্স ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রপাতির। পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত আছেন। প্রশ্ন থাকিয়া যাইবে—অবহিত থাকিলে কী করিয়া ছয় বত্সরেও স্টেশনটি চালু করা গেল না?
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ; দেশের অনেক জেলায় সড়কপথের তুলনায় নৌপথে যোগাযোগ সহজতর। যে সকল জায়গায় নৌপথে যোগাযোগ সহজ, সেখানে নদী ফায়ার স্টেশন গড়িয়া তোলা একটি ভালো উদ্যোগ হইতে পারে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু জায়গায় স্থাপন করা হইয়াছে নৌ ফায়ার স্টেশন। আমরা আশা করি, এই কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করিতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করিবে। পাশাপাশি পটুয়াখালী নৌ ফায়ার স্টেশনটি কার্যকর করিবার ব্যাপারে সত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।