ফাঁসির আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করে দ্রুত রায় কার্যকর চান স্বজনরা

এমপি লিটন হত্যা

তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার রায়ে বৃহস্পতিবার সাত জনের ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে। রায়ে খুশি এমপি লিটনের স্বজন, এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চন্দন কুমার রায়কে গ্রেফতার করে দ্রুত রায় কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক নাদিম মাহমুদ বলেন, এ উপজেলাটি মূলত জামায়াত-শিবির প্রভাবিত এলাকা। এমপি লিটন জামায়াতের সেই ঘাঁটি ভেঙে দিয়েছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগকে সুন্দরগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাই এ হত্যাকাণ্ড। বামনডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান (৬০) বললেন, ‘হামার এমপি লিটোনোক যাই মারি ফেলাচে, তার ফাঁসির কতা শুনি খুসি হচি। অ্যাখোন তার ঘরের তাড়াতাড়ি ফাঁসি হওয়া দরকার।’ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শামসুল আলম হিরু বলেন, ‘আবদুল কাদের খান ঠান্ডা মাথায় খুনিকে পাঠিয়ে দিয়ে এমপি লিটনকে হত্যা করেন।’ রায়ে অবশ্যই আমরা আনন্দিত।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কোনো বিশেষ আদালতে না গিয়ে প্রচলিত আদালতেই আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। জেলা সিপিবির সভাপতি মিহির ঘোষ বলেন, এখন রায় দ্রুত কার্যকর হওয়া উচিত। এমপি লিটনের বোন ফাহমিদা বুলবুল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আফরোজা বলেন, আমার ভাই এলাকার মানুষকে ভালোবাসতেন এবং এলাকার উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাই এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে লিটন এলাকাতেই বেশি থাকতেন। রায়ে আমি ও আমাদের পরিবার খুশি। তবে রায় দ্রুত বাস্তবায়ন হলে আরো খুশি হব। রায়ের পর লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এসে বলেন, ফাঁসির আসামি চন্দন কুমার রায়কে গ্রেফতার করে দ্রুত রায় কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বিচার বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তাহলে আর কেউ কোনো এমপিকে হত্যা করার সাহস পাবে না।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়। এ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খান, মো. শামছুজ্জোহা (কাদের খানের একান্ত সহকারী), আবদুল হান্নান (তার গাড়িচালক), মেহেদি হাসান, শাহীন মিয়া ও আনোয়ারুল ইসলাম রানা ও চন্দন কুমার রায়। চন্দন পলাতক ও অপর এক আসামি কসাই সুবল কারাগারে মারা গেছেন।