দৈনিক ইত্তেফাকে গত বৃস্পতিবার প্রকাশিত ‘পূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি উধাও’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন স্বাক্ষরিত প্রতিবাদপত্রে বলা হয়—
প্রকাশিত প্রতিবেদন ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত। এটি তথ্যনির্ভর নয়। মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়াধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) থেকে সুপারিশপ্রাপ্তির পর মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে নিয়োগসংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জুলাই মাসের পর পিএসসি থেকে নিয়োগসংক্রান্ত কোনো সুপারিশ না পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এসংক্রান্ত কোনো নথি উপস্থাপিতই হয়নি। তাই এসংক্রান্ত নথি উধাও বা হারিয়ে যাওয়া বা গায়েব হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একটি উচ্চপদ। এ পদে সরাসরি নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। এ পদে নিয়োগ বা পদায়ন সংক্রান্ত কোনো নথি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এই মুহূর্তে উপস্থিত হয়নি। তাছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়াধীন কোনো দপ্তর-সংস্থায় প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘উপপ্রকৌশলী’ নামে কোনো পদই নেই। আরো উল্লেখ্য, জিকে শামীমকে অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিয়ে লাভবান হয়েছেন এমন অভিযোগে মন্ত্রণালয়াধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোনো প্রকৌশলীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়নি।
অন্যদিকে উন্নয়ন কাজের পুনঃদরপত্র আহ্বানসংক্রান্ত মূল কাজটি সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। প্রতিবেদনে উল্লিখিত জিকে শামীমের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন কিছু উন্নয়ন কাজের পুনঃদরপত্র আহ্বানের বিষয়টি রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী গণপূর্ত অধিদপ্তরের একতিয়ারভুক্ত। পুনঃদরপত্র অনুমোদনের কোনো প্রস্তাব গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়নি বলে মন্ত্রণালয়ে এসংক্রান্ত কোনো নথি সৃজন হয়নি। তাই এসংক্রান্ত নথি গায়েবের বিষয়টি সত্য নয়।
অরপদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নূর উদ্দিনের দুর্নীতিসহ অন্যান্য বিষয়ে ৪৫ পাতার সংলগ্নীসহ অভিযোগসমূহ তদন্ত করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে মন্ত্রণালয়ে প্রাপ্ত সব ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত ৩৭ পাতার অভিযোগের সংযুক্তি এবং এটি গায়েব হবার বিষয়টি সঠিক নয়।
এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লিখিত অন্য তথ্যসমূহও সুনির্দিষ্ট নয়।