আধুনিক এই যুগে নিজেকে সবসময় আপডেট রাখতে যারা হাঁপিয়ে উঠেছেন, পাহাড় তাদের জন্য স্বস্তির জায়গা। খুব বেশি ভেতরে চলে গেলেই আপনি সব আধুনিক সেবা থেকে দূরে। বিষয়টি প্রথমে একটু অস্বাভাবিক লাগলেও অভ্যাস আপনাকে স্বাভাবিক করে দেবে। সমতলের জীবনের চেয়ে পাহাড়ি জীবন অনেকটাই ভিন্ন। তাই সুযোগ পেলে পাহাড় ভ্রমণ আমি মিস করি না।
কিছুদিন আগে বান্দরবান ঘুরে এলাম। গন্তব্য ছিল নাফাখুম ও আমিয়াখুম। যারা ট্র্যাকিং পছন্দ করেন তাদের কাছে এই দুই জায়গা বেশ জনপ্রিয়। যদিও আমিয়াখুম ট্র্যাকিং দুর্গম হওয়ায় সেখানে ট্রাভেলারদের সংখ্যা কম থাকে।
ভোরে বান্দরবান শহর থেকে থানচির উদ্দেশ্যে রওনা দিই। প্রায় ৩ ঘণ্টার এই রাস্তা দিয়ে আপনি যখন থানচি গিয়ে পৌঁছাবেন ততক্ষণে পাহাড় আর মেঘের গন্ধ আপনার গায়ে লেগে যাবে। চাঁদের গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে যখন এগুচ্ছি তখন পুরো ভ্যালি মেঘে ঢেকে গেছে। ওপর থেকে দেখলে মনে হয় পুরো ভ্যালিজুড়ে মেঘের চাদর বিছানো।
থানচি ঢোকার আগে একটা বিজিবি ক্যাম্প পড়ে। সেখানে নাম পরিচয় সব এন্ট্রি করে তাদের অনুমতি নিয়ে ভ্রমণ শুরু করতে হয়। এরপরও আরো দুই জায়গায় এন্ট্রি করতে হয়। থানচি থানায় ও বোট ঘাটের বিজিবি ক্যাম্পে।
নেটওয়ার্কের বাইরে
সব ধরনের ফর্মালিটিস শেষ করে আমরা সাঙ্গু নদী হয়ে রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। দুই ইঞ্জিন নৌকায় আমরা ৭ জন। সঙ্গে দু’জন গাইড। ঢাকা থেকে আমরা গাইড ঠিক করে নিই।
নৌকায় ২০ মিনিট পেরুতে আমরা নেটওয়ার্কের বাইরে। দু-পাশে পাহাড়ের ফাঁকে নীল আকাশ। তার নিচে পাথরের নদী বেয়ে আমরা এগুচ্ছি স্রোতের বিপরীতে। পাহাড়ের নদীগুলো ওপর বেয়ে নিচের দিকে নামার কারণে স্রোতে মাত্রা বেশি। প্রায় ঘণ্টাখানেক যাওয়ার পর দু-পাশে বিশাল আকারের পাথর ঘেঁষে আমাদের নৌকা এগুচ্ছে। কাছ থেকে দানব আকারের এই পাথর দেখার অভিজ্ঞতা আমার এই প্রথম। পাথরের অংশ পার হয়ে আমরা দুপুরের খাবারের বিরতি দিই। থানচি থেকে খাবার নিয়ে আসতে হয়। কারণ এরপর আর ভারি কোনো খাবারের ব্যবস্থা নেই। নৌকার নোঙর ফেলে আমরা একটা বাঁশের ছাউনি ঘরে খাবার খেয়ে নিই। সঙ্গের কয়েকজন নদী থেকে গোসল সেরে নিলো। প্রায় ৩০ মিনিট বিরতির পর আমরা রওনা দিলাম। কিন্তু বিরতির এই জায়গা থেকে হেঁটে নদী পার হয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে যেতে হয়। গভীরতা কম থাকায় আর স্রোতের কারণে যাত্রী বহন করা খানিকটা বিপজ্জনক। ১০ মিনিটের মতো হেঁটে আমরা আবার নৌকায় উঠি। সেখান থেকে রেমাক্রি পৌঁছাতে মধ্য দুপুর। রেমাক্রি থেকে বামে চলে গেছে নাফাখুম ও আমিয়া খুম। সামনের দিকে এগিয়ে গেলে এর গন্তব্য আন্ধার মানিক।
রেমাক্রি পর্যন্ত আমাদের যানবাহন সুবিধার ইতি টানতে হলো। এরপর যেখানেই আপনার গন্তব্য হোক না কেন, একমাত্র সম্বল দুটি পা। রেমাক্রিতে আমরা কোনো দেরি না করে হাঁটা শুরু করি। নদীর তীর ধরে কিছুদূর হেঁটে যেতেই পাহাড়ের উঁচু-নিচু রাস্তা। কখনো বড় পাথর বেয়ে এগুতে হচ্ছে, আবার কখনো নদী পারাপার। আমি আগেই বলেছি, পাহাড়ি নদীর স্রোত বেশি থাকে। তীর থেকে সেটি বোঝা সম্ভব না। যে জায়গায় ঝিরির গভীরতা কম সেখান দিয়েই গাইড নিয়ে যাবেন। তবে অবশ্যই পায়ে এমন কোনো স্যান্ডেল থাকতে হবে যার গ্রিপ ভালো। আর অবশ্যই কেডস জাতীয় কোনো জুতা পরবেন না। কারণ কিছুক্ষণ পরপর ঝিরি পার হতে হবে। তাই ভেজা পা আর জুতা নিয়ে আপনি হাঁটতে আরামবোধ করবেন না। আর বর্ষার সময় জোঁকের একটা ভয় থাকা স্বাভাবিক।
অন্ধকারের পথ ধরে হাঁটা
নাফাখুম পর্যন্ত পৌঁছাতে আমরা কয়েক জায়গায় বিশ্রামের বিরতি দিলাম। কারণ প্রায় ৩ ঘণ্টা হাঁটার পথ ট্র্যাকিংয়ের শুরুতে একটু কঠিন হয়ে যায়। তার ওপর রোদের তাপ তখন অনেক। দিন ছোট হওয়ায় নাফাখুম পৌঁছালাম শেষ বিকেলে। ২০ মিনিটের মতো আলো পেলাম। এরমধ্যে সবার ক্যামেরা আর মোবাইল বের করে যে যার মতো ছবি তুলছে। নাফাখুমের ওপারে একটি ছোট দোকানে আমরা শেষে বসলাম। হাল্কা খাবার খেয়ে জিন্নাহ পাড়ার দিকে রওনা হলাম। এখনো আরো ৩ ঘণ্টার রাস্তা। অন্ধকার হয়ে আসছে। পেছনে বড় কাপড়ের ব্যাগ সামনে ক্যামেরার ব্যাগ। এক হাতে টর্চ লাইট অন্যহাতে বাঁশের লাঠি। ট্র্যাকিংয়ে কিছু জিনিস সঙ্গে রাখা জরুরি। এরমধ্যে টর্চ লাইট আর শুকনো খাবার অন্যতম। ছোট একটা বাঁশের লাঠিও সঙ্গে থাকা ভালো। কারণ উঠতে বা নামতে এটি আপনাকে ভালো সাপোর্ট দেবে। আর রাতে যেহেতু ঘুটঘুটে অন্ধকার, তাই টর্চ ছাড়া আপনার এগুনো সম্ভব না। শুকনো খাবারের মধ্যে খেজুর, কিসমিস বেশ কাজে দেয়। কারণ মুহূর্তের মধ্যে এনার্জি পেতে এই খাবারগুলো বেশ কার্যকরী।
নাফাখুম থেকে জিন্নাহ পাড়ার দিকে যেতে আমাদের এমন রাস্তা পাড় হতে হবে তা ভাবিনি। কখনো বিশাল পাথরের ওপর দিয়ে যেতে হচ্ছে। আবার কখনো এক হাতে টর্চ লাইট, অন্য হাত দিয়ে পাহাড়ের অংশ ধরে পার হতে হচ্ছে। তবে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আপনি যদি প্রস্তুত থাকেন এবং মনের জোর থাকে তাহলে সবই সম্ভব। তবে সতর্কতা সবার আগে। কারণ আপনি এমন রাস্তাও পার হতে হবে যেখানে সামান্য পা ফসকে যাওয়াও আপনার জন্য বড় বিপদ হতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে সবার আগে।
৬ ঘণ্টা হাঁটার পর জিন্নাহ পাড়ায়
অন্ধকারের এই রাস্তাটুকু যেতে আমাদের কিছুটা বেশি সময় লাগলো। রাতে ঝিরি পার হতেও একটু বেশি সচেতন হতে হয়। জিন্নাহ পাড়া পৌঁছাতে আমাদের ৩ ঘণ্টার একটু বেশি সময় লাগলো। একটি ছোট পাহাড়ের ওপর জিন্নাহ পাড়া। এখানেই ২ রাত ছিলাম আমরা। একটি দোতালা কাঠের ঘর। মেঝেটা বাঁশের মাচা দিয়ে করা। প্রায় ৬ ঘণ্টা হাঁটার পর আমাদের পুরো শরীর যেন ব্যথার প্রাসাদ। রনি ভাই আমাকে কয়েকটি রেগুলার ব্যায়াম করালেন। এতে কিছুটা স্বস্তি পেলাম। এখানে মেঝেতেই বিছানা করে ঘুমাতে হয়। যে যার মতো বিছানা করে ঘাঁটি গাড়লাম। ঘণ্টাখানেক বিশ্রামের পর রাতে খাবার শেষ করি। খাবারের মেন্যুতে বিশেষ রান্না ছিল পাহাড়ি মুরগি। এত স্বাদের মুরগি আগে কেউ কখনো খেয়েছেন কি-না জানি না। তবে আমি খাইনি। জুম চালের ভাতের সঙ্গে মুরগির মাংস অমৃত ছিল। খাবার শেষে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়েই আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন সকাল ৮টায় আমার ঘুম ভাঙে। ততক্ষণে কেউ রুমে নেই। ভোরে সবাই ছবি তুলতে বের হয়েছে। কিন্তু শরীরের ব্যথার যে অবস্থা তাতে না ওঠার আলসেমি দূর করতে পারলাম না। রাতে যদিও ব্যথার ওষুধ খেয়েছি, কিন্তু খুব একটা কাজে লাগেনি মনে হয়। সকালে খাবার খেয়ে আমরা আমিয়াখুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। আমিয়াখুম থেকে আবার এই পাড়াতে এসেই আমরা থাকবো।
গন্তব্য আমিয়াখুম
আগের দিন আমরা মোটামুটি পাহাড়ের সমতল রাস্তা ধরেই এসেছিলাম। কিন্তু আমিয়াখুম যেতে অনেকগুলো পাহাড় পাড়ি দিয়ে হয়। যাওয়ার সময় শুধু উঠতে হবে। দেবতা পাহাড় পর্যন্ত আমাদের সময় লাগলো ২ ঘণ্টার মতো। যেহেতু পাহাড়ে শুধু উঠতে হচ্ছে তাই আজকের কষ্টটা একটু বেশি। দেবতা পাহাড়ের কিছুটা আগে একটি পাড়ায় আমরা থামলাম। নাম ‘নিকোলাস পাড়া’। নিকোলাস নামে এক ব্যক্তির নামে এই পাড়া। সে তার পরিবারসহ এখানে থাকেন। অল্প কয়েকটি ঘর রয়েছে এই পাড়ায়। পাহাড়ি পাড়াগুলো ব্যক্তি নামে গড়ে ওঠে। যে অংশটুকুতে যিনি প্রথম বসবাস শুরু করেন তার নামেই পাড়ার নাম হয়। এরপর সেখানে আরো কয়েকটি পরিবার যোগ দেয়। নিকোলাস পাড়া একটা বড় পাহাড়ের চূড়ায়। এই বিশাল পাহাড়ি এলাকায় একমাত্র এখান থেকে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। তাই এখান থেকে আমরা বাসায় যোগাযোগ করলাম। আর পুরো ট্র্যাকের এই একবারই আপনি বাসায় যোগাযোগ করতে পারবেন। কারণ ফেরার সময় এই পাহাড়ের নিচ দিয়ে ফিরতে হবে। ১০ মিনিটের মতো আমরা সেখানে ছিলাম।
আতঙ্কের ‘দেবতা পাহাড়’
এরপর পাড়া থেকে নেমে কিছুটা সমতল পথ পেলাম। এরপর আবারো পাহাড় বেয়ে আমরা দেবতা পাহাড়ে পৌঁছালাম। আমিয়াখুম ট্র্যাকিংয়ে বিপজ্জনক একটু জায়গা। কারণ এটি ৯০ ডিগ্রি একটি পাহাড়। যেখান থেকে ৪০ মিনিটের মতো আপনাকে নিচে নামতে হবে। তাই এই সময়টা দুই হাত খালি রাখতে হবে। ছবি তোলা থেকে বিরতি থাকা ভালো। বাঁশ আর হাতের সাপোর্টে ধীরে ধীরে নামতে হবে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সচেতনভাবে নামলে খুব কঠিন কিছু আপনার মনে হবে না।
চোখের সামনে আমিয়াখুম
প্রায় ৪০ মিনিট পাহাড় বেয়ে নিচে নামলাম। বামে আমিয়াখুম আর ডানে ভেলাখুম। দুটি ৫ মিনিটের মতো পথ। একটি বাঁশের ভেলা করে আমরা ভেলাখুম ঘুরে আমিয়াখুমের দিকে এলাম। ততক্ষণে বিকেল। দু-পাশে বিশাল পাহাড় পানির শব্দ আর হাল্কা শীতে পরিবেশটা অন্যরকম এক দ্যোতনা সৃষ্টি করে। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখতে হলে প্রকৃতির অন্দরমহলে ঢুকতে হয়। থানচি থেকে হিসেব করলে এই জায়গায় পৌঁছাতে আমাদের দেড় দিন সময় লাগলো। সন্ধ্যার আগেই আমাদের জিন্নাহ পাড়ায় ফিরে যেতে হবে। কারণ টর্চের আলো দিয়ে দেবতা পাহাড়ে ওঠা আর বাকি পাহাড়গুলো নামা অনেকটা কঠিন হয়ে যাবে। আমিয়াখুমে সময় কাটিয়ে এবার আমাদের দেবতা পাহাড় ওঠার পালা। আবারো এই ৯০ ডিগ্রি পথ বেয়ে ওপরে ওঠার আগে একটু চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। কতক্ষণ যে লাগে এই পাহাড় উঠতে! কিন্তু মাঝে দুই-তিনবার বিশ্রাম নিয়ে আমরা ভালোভাবেই পাহাড়ের ওপর উঠে গেলাম। এরপর আবারো একই পথে জিন্নাহ পাড়ায় ফিরে গেলাম।
জিন্নাহ পাড়ার রাত
আগের রাতে আমাদের সময়টা ঘরবন্দি গেছে। তাই আজ একটু ভালোভাবেই কাটাতে চাইলাম। রাতের খাবার শেষে করে আমরা নিচে আগুন জ্বালালাম। রাতে পাহাড়ে বেশ শীত পড়ে। পুরো পাড়া কুয়াশায় ঢাকা। এরমধ্যে আগুন জ্বালিয়ে আড্ডায় বসলাম আমি, টুটুল, জুয়েল, মাহবুব, রনি ভাই আর ভাবি। বাশার তখন রুমে, প্রায় এক ঘুম শেষ। টুটুল, রনি ভাই ও ভাবি চলে গেলেন। আমরা ৩ জন বসে আগুন পোহাচ্ছি। সঙ্গে টুকটাক গান করছি। আগুন জ্বলা শেষ হতে আমরাও রুমে ফিরে যাই। সকালে আমাদের গন্তব্য এবার ফেরার পথ। এরমধ্যে এক রাত আমরা নাফাখুম পাড়ায় থাকবো।
নাফাখুম পাড়া
সকালের খাবার শেষ করে ১০টার মধ্যে আমরা নাফাখুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। আসার সময় রাত থাকায় এই রাস্তা পাড়ি দেওয়ার সময় কিছুই দেখা হয়নি। তাই ফেরার দিন কিছুটা সময় নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিরতি দিয়ে আমরা নাফাখুম পৌঁছাতে আমাদের দুপুর হয়। এরমধ্যে একটা লম্বা বিরতি দিই আমরা। সেখানে মাহবুব ও বাশার গোসল করে নিলো। এই পথে আবার ফেরার সময় আমরা অনেকটা অবাক হয়ে যাই। এমন একটা রাস্তা আমরা রাতে টর্চ জ্বালিয়ে পার হয়েছি! যাই হোক, দুপুরে নাফাখুম পৌঁছে আমরা বিশ্রাম নিই। ওই পাড়ায় গাইড আগে থেকে আমাদের রুমের ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। জিন্নাহ পাড়াতেও গাইড দ্বারা আগে থেকে বুক করেছিলাম। নাফাখুম আসা পর্যন্ত আমরা অনেকটা সময় এক জায়গায় আমাদের কাটানো হয়নি। কারণ সারাদিন হেঁটে রাতে ঘুম, আবার সকালে হাঁটা শুরু। একমাত্র এখানেই আমরা দুপুর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত সময় পেলাম। দুপুরের খাবার অর্ডার করে আমরা নাফাখুমে নামলাম। নাফাখুমের গা ঘেঁষে কিছু উঁচুতে নাফাখুম পাড়া। নিচে নেমে কেউ আড্ডা দিচ্ছি, কেউ গোসল করছে, আবার কেউ ছবি তোলায় ব্যস্ত। সবাই বেশ স্বস্তি মেজাজে আছি। দোকানে বসে আমরা ক’জন চা খাচ্ছি, এমন সময় বাশার অথবা জুয়েলের আওয়াজ শুনতে পাই। এগিয়ে দেখি জুয়েলের ক্যামেরা পানিতে পড়ে গেছে। পুরো ট্যুরে মন খারাপের একটা সময় সবার। এরপর একজন পাহাড়ি ব্যক্তি জাল দিয়ে ৩০ মিনিট পর ক্যামেরা উদ্ধার করলেন। প্রায় ২০ ফুট গভীর আর এমন স্রোতের মধ্যে ক্যামেরাটা খুঁজে পাওয়া আমাদের জন্য খুশির খবর ছিল। ক্যামেরার সঙ্গে ট্রাইপড না থাকলে সেটিও হয়তো হতো না। এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিই। বিকেলে পাড়ায় ঘুরে ঘুরে ছবি তুলে আমরা আবার নিচে নেমে আসি। নাফাখুমের পাশে দোকানে বসে আছি। কেউ খুমের পাড়ে। পুরো জায়গাটা ততক্ষণে অন্ধকার। পাড়ায় উঠে প্রতিরাতের মতো খাবার খেয়ে আড্ডা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
ফিরে আসার দিন
সকালে সেদিনও দেরি করেই আমার ঘুম ভাঙলো। তবে আজকে আমার সঙ্গে রুমে জুয়েল আর মাহবুব আছে। আমি আর মাহবুব নিচে নামলাম। খানিকটা ঘুরে ফিরে এলাম। এরপর বের হওয়ার প্রস্তুতি। আবার আমাদের হাঁটা পর্ব। স্বাভাবিকভাবেই একটু খারাপ লাগছে। নাফাখুম থেকে ফিরে এলাম রেমাক্রি। মাঝে ঝিরিতে কয়েকজন গোসল করলাম। এরপর একটা পাহাড়ি দোকানে কলা আর পেঁপে খেলাম। পাহাড়ি ফলের মধ্যে কলা, পেঁপে আর পেয়ারা বেশ কয়েক জায়গায় পাবেন এবং স্বল্প মূল্যে। রেমাক্রিতে আমাদের ইঞ্জিন নৌকা আগেই রিজার্ভ করা ছিল। এই সব কাজের দায়িত্ব গাইডের। বিকেলের মধ্যে আমরা থানচি ফিরে এলাম। থানচি থেকে বান্দরবান ফিরতে রাত হবে। তাই সূর্যাস্তের সময়টা কোনো জায়গায় দাঁড়ালে মন্দ হবে না। দূর আকাশে লাল আভা। আর পাহাড়ের পেছনে ধীরে ধীরে চোখের আড়াল হয়ে যাচ্ছে সূর্যটা। চোখে লেগে থাকার মতো সৌন্দর্য। বান্দরবান এসে যখন পৌঁছাই তখন প্রায় ৮টা। টিকেট কেটে রাত ৯টায় আমরা বাসে উঠি।