নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়াম। ১৯৯৯ সালে এই স্টেডিয়ামেই সাফ গেমস ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। গেমস ফুটবলে সোনার হরিণ হয়ে ওঠা বাংলাদেশ ফুটবল দলের জুয়েল রানা, হাসান আল মামুন, গোলকিপার বিপ্লব ভট্টাচার্য, আরমান মিয়া, মিন্টু, ফয়সালরা অনেক প্রতীক্ষার সোনার পদক এনে দিয়েছিলেন। ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০ বছর পর আবার নেপালের সেই মাঠে গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ মাঠে নামতে যাচ্ছে। এসএ গেমস ফুটবলের সোনার পদকের অভিযান শুরু আজ।
আজ প্রথম খেলায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। খেলা শুরু হবে নেপালের সময় বেলা ১টায়। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ লিগ পদ্ধতির ম্যাচে সবাই সবার বিপক্ষে খেলে সেরা দুই দল ফাইনাল খেলবে ১০ ডিসেম্বর।
এস এ গেমস ফুটবল মাঠে গড়াবে আজ। সোনার পদকের লড়াইয়ের জন্য সাত দেশ মাঠে নামবে। ২০১৫ সালে নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে দেশটাই লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে আবার নেপালিরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সংগ্রাম করেছে। ভূমিকম্পের কারণে কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চার বছর এই মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলও হয়নি। আজ এস এ গেমস ফুটবল দিয়ে ঐতিহাসিক দশরথের মাঠে আবার আন্তর্জাতিক ফুটবল গড়াতে যাচ্ছে।
২০ বছর আগে দশরথের মাঠ থেকে বাংলাদেশ যখন ট্রফি জয় করেছিল সেই দলের কোনো ফুটবলার এখন দলে নেই। থাকারও কথা না। আর এখন যারা জাতীয় দলে খেলছেন তারাও অনেকেই ৯৯ সালের আগে-পরে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশব কাটিয়েছেন। রিয়াদুল হাসান, আল আমিন, সুফিল, সাদউদ্দিন, রাকিব, ইব্রাহিম, বিপলু, গোলকিপার জিকো, গোলকিপার পাপ্পু, টুটুল হোসেন বাদশাদের অনেকের কাছেই নেপালের গেমস ফুটবল যেন রোমাঞ্চকর একটি জায়গা। বড়োরা ট্রফি নিয়ে গেছেন এই দশরথের মাঠ থেকে এবার তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আছেন ফুটবলাররা। ছোটোদের সঙ্গে সিনিয়র ফুটবলার তিন জন রয়েছেন জামাল ভুইয়া, নাবীব নেওয়াজ জীবন, ইয়াসিন খান। তাদের অভিজ্ঞতা পুরোটাই ভুটানের বিপক্ষে বিলিয়ে দেবেন আজ। ভুটানের বিপক্ষে খেলা হলেও এস এ গেমস ফুটবলে ভুটানের কাছে কখনোই হারেনি বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ভারতের গৌহাটিতে এস এ গেমস ফুটবলে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করেছিল। সেই ম্যাচে খেলেছিলেন বাংলাদেশের স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তার সফলতা নেই বললেই চলে। ওপেন নেট মিস করার অভ্যাসে পরিণত এই স্ট্রাইকার দশরথের মাঠে জ্বলে উঠতে চান। দেখাতে চান জীবন, নিজেকে প্রমাণ করতে চান। নেপালে সংবাদ মাধ্যমকে কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচের পারফরম্যান্স টেনে জীবন বলেন, ‘আমরা যেভাবে খেলে আসছি সেভাবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে এবার সাফল্য পাব।’ মাস দুই আগেও ঢাকার মাঠে ভুটানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের প্রায় সব ফুটবলারাই আজ নেপালের মাঠে ভুটানের বিপক্ষে খেলবে। বাড়তি আত্মবিশ্বাস থাকতেই পারে। তারপরও দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডের কথা হচ্ছে, ‘সব ম্যাচ জিততে হবে। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে। গোল করতে হবে।’ কোচের চাপ স্ট্রাইকারদের ওপর। জীবনও সেটা শুনেছেন। জেনেছেন জামাল ভুইয়া, মাঠে করণীয়টা কি হবে সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন দলের অন্য খেলোয়াড়দের কানে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে রক্ষণাত্মক ফুটবলের দিকেই জেমি ডের নজর বেশি ছিল। সেই খোলস থেকে বেরিয়ে নেপালে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চান কোচ। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে নেপালে গিয়ে সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ফুটবল ওপরে খেলতে হবে। তার ওপর সেখানে সুইমিংপুল সুবিধা, জিম সুবিধা পায়নি ফুটবল দল। আরো সমস্যা হচ্ছে পাঁচ দিনে তিন ম্যাচ খেলতে হবে। আজ ভুটান ম্যাচ খেলেই আগামীকাল মালদ্বীপের বিপক্ষে লড়াই।