জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চিকাজানী ইউনিয়নে গত তিন মাসে অসংখ্য বসতবাড়ি, গাছ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ফসলি জমি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, খোলাবাড়ীর চর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে বাজরের একটি খোলা মাছের শেডঘরে। এছাড়া খোলাবাড়ীর চর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৪৪ জন ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদান চলছে একটি সবজি বিক্রির খোলা শেডঘরে। ভাঙনকবলিত অনেক পরিবার বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে রাস্তার পাশে, আবার অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র শহরে গিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন। গতমাসে যমুনা নদীর ভাঙন আরো ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এক মাসে ভাঙনের শিকার হয়েছেন খোলাবাড়ীর চরের আব্দুস সালাম, আব্দুর রহিম, শাহ আলম, ইমরান, সাফি, রোকন, পল্লি চিকিত্সক নূর মোহাম্মদ, মালেকসহ আরো অনেকেই। তারা জানান, চলতি শুকনো মৌসুমে এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানাসহ ইদ্রিসিয়া দারুল উলুম কাওমী মাদ্রাসা, চর মাগুরী ঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর ডাকাতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খোলাবাড়ী বাজারের অবশিষ্ট অংশসহ চর মাগুরী ঘাট পশ্চিমপাড়া, ফারাজীপাড়া, চর ডাকাতিয়াপাড়া, মন্ডল বাজারসহ বিশাল এলাকা নদীগর্ভে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের খোলাবাড়ী চর এলাকার রাস্তার পাশে আশ্রিত রমিছা বেগম বলেন, আমরা সরকারের কাছে রিলিফ চাই না, নদীভাঙন রোধে বাঁধ চাই। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ওয়াজেদ মাস্টার জানান, আমার তিন একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আমি এখন নিঃস্ব। এবারের ভাঙনে শেষ সম্বল বসতবাড়িটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল। স্থানীয় মনিরুজ্জামান রিপন জানান, আমার দুটি দোকান ছিল। দুই মাস আগে একটি যমুনা নদী ভেঙে নিয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা জানান, খোলাবাড়ী এলাকার ভাঙনের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান সোলাইমান হোসেন জানান, শুকনো মৌসুমে নদীর এমন ভাঙন জীবনে দেখিনি। ভাঙনের খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, খোলাবাড়ী থেকে ফুটানীবাজার পর্যন্ত একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হলে দ্রুত কাজ করা সম্ভব হবে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, ভাঙন রোধে একটি বড়ো প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে খুব দ্রুত নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।