এই সময়ে টিউনিক টপস

 

নতুন প্রজন্মের কাছে ওয়েস্টার্ন পোশাকের চাহিদা বেশি। এখন ফ্যাশন মানেই ফিউশন। দেশি ও পাশ্চাত্যের মিশেল রয়েছে

বেশিরভাগ পোশাকে।  সেই ধারাবাহিকতায় তরুণীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের টিউনিক টপস। শীতের এই সময়ে পরার উপযোগী ট্রেন্ডি টিউনিক

টপস নিয়ে এবারের আয়োজন

 

l মেরিনা আহমেদ

ফ্যাশনের আধুনিকতার জন্যই ওয়েস্টার্ন পোশাক এখন জায়গা করে নিয়েছে তরুণ-তরুণীদের পছন্দের তালিকায়। তাই দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন পোশাকেও তরুণ-তরুণীদের দেখা যায় হরহামেশা। যারা ফ্যাশন-সচেতন, তাদের কাছে দেশীয় পোশাক যেমন পছন্দের, একইসঙ্গে তারা পছন্দ করেন ওয়েস্টার্ন পোশাক। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণী থেকে শুরু করে এক্সিকিউটিভ লেভেলের নারীরাও ওয়েস্টার্ন পোশাক পরছেন। হাল ফ্যাশনে তরুণীদের কাছে কামিজের জায়গায় ট্রেন্ডি টিউনিক টপস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

মূলত ‘টিউনিক’ শব্দটা এসেছে রোমান শব্দ ‘টিউনিকা’ থেকে। কাঁধ থেকে দেহের মধ্যভাগের নিচ পর্যন্ত কিংবা হাঁটু সমান লম্বা এই পোশাকের প্রচলন শুরু হয় রোমান থেকে। ওই সময় রোমান তরুণীরা উত্সবের সময় এমন পোশাক পরত। প্রাচীন গ্রিসেও টিউনিক প্যাটার্ন-নির্ভর পোশাকের ব্যবহার পাওয়া যায়। মধ্যযুগের এই পোশাকের থিমটা হাল ফ্যাশনে যুক্ত হয়েছে। একসময় পাশ্চাত্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পরার জন্য টিউনিক পোশাক বেশ জনপ্রিয় ছিল। পরবর্তীকালে তা নিত্যদিনের পোশাকের চল শুরু হয়। এই উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত টিউনিক থিমের পোশাক সাধারণত কুর্তা নামের পরিচিত।

হাল ফ্যাশনে টিউনিক টপস সম্পর্কে দেশীয় ব্র্যান্ড ইয়াংকের সিনিয়র ডিজাইনার শাহাজাদা খান বলেন, ‘ওয়েস্টার্ন স্টাইলের সঙ্গে দেশি ঘরানার ফিউশন করে কিছু টপসের ডিজাইনকেই আমরা টিউনিক বলে থাকি। কুর্তি ও টিউনিকের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কুর্তি হলো কামিজেরই একটি আলাদা স্টাইল। সেক্ষেত্রে টিউনিক টপস ও দেশি স্টাইলের ফিউশন। আসলে দেশীয়ভাব বজায় রেখে ওয়েস্টার্ন পোশাকের প্যাটার্নে তৈরি করা হয় টিউনিক। তরুণীদের কাছে এই পোশাক বেশ জনপ্রিয়। জিন্স বা পালাজ্জোর সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। চাইলে স্কার্ট বা ধুতি-পায়জামার সঙ্গে মিলিয়ে পরা যায়। ফ্যাশনে ভিন্নতার জন্যই নতুন প্রজন্মের কাছে টিউনিক বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া যেকোনো পরিবেশের সঙ্গেই মানিয়ে যায়।’

টিউনিকের ডিজাইনে ভিন্নতা আনার স্বাধীনতা রয়েছে। কাপড়ের ধরন বুঝে চাইলেই মনমতো ডিজাইন ফুটিয়ে তোলা যায়। টিউনিকের নিচের অংশ, গলার স্টাইল, হাতা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নতুনত্ব আনার সুযোগ রয়েছে। হাল ফ্যাশনে মূলত টিউনিকের কাট এবং হাতার স্টাইলে ভিন্নতা আনা হচ্ছে। আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে মূলত পোশাকের কাপড় বাছাই করা হয়। শীতের এই সময়ে পরার জন্য ইয়াংকে চেকের ট্রেন্ডি টিউনিক টপস তৈরি করেছে। প্যাটার্ননির্ভর এই পোশাকগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে কটনের মোটা কাপড়। সঙ্গে রয়েছে চেকের ভেরিয়েশন। ছেলেদের শার্টের লুপের মতো হাতে বোতাম রয়েছে। যাতে চাইলে হাত গুটিয়েও রাখা যায়। সেইসঙ্গে বিভিন্ন ডিজাইনের কলারও আছে এবং কিছু ডিজাইনের টিউনিক টপসের দুই পাশে পকেট থাকায় তা হয়ে উঠেছে নান্দনিকও। প্রতিদিনের পোশাক হিসেবে টিউনিক বেশ মানানসই। থ্রিকোয়ার্টার ও ফুলস্লিভ টিউনিক টপসগুলো পরতে বেশ আরামদায়ক।

এই সব টিউনিক টপসের মূল্য ১৩ শ থেকে ১৭ শ টাকা। আপনার পছন্দের ট্রেন্ডি টিউনিক টপস কিনতে যেতে পারেন এক্সটেসি, ক্যাটস আই, ইয়েলো, জেন্টাল পার্ক, মারজিনসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের আউটলেটে।

               মডেল    ফারিহা

             পোশাক    ইয়াংকে

            মেকআপ    মিউনী’স ব্রাইডাল

                  ছবি    তাহের মানিক