ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া, সংক্ষেপে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সে অনুযায়ী আগামী ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। ভোটের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। এ লক্ষ্যে চলছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টির জোর প্রচারণা। দেশ জুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ব্রেক্সিট ও ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনকে তারা কোন পথে নিয়ে যাবেন, তা নিয়ে রয়েছে দুই দলেরই ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, প্রতিশ্রুতি। এরই মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টি। কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান প্রতিশ্রুতি যেখানে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন, লেবার পার্টির সেখানে প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো ব্রিটেন আদৌ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে কি-না, এই ইস্যুতে গণভোট আয়োজনের।
বরাবরের মতো এবারের নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ‘অভিবাসন’। এই ইস্যুতে বেশ সতর্ক প্রধান দুই রাজনৈতিক দল কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টি। এরই মধ্যে অভিবাসননীতিতে সমতা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি জানান, আবারও ক্ষমতায় এলে ব্রেক্সিট কার্যকরের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইইউ-বহির্ভূত সবার জন্য সমান অভিবাসননীতি কার্যকর করবে তার দল। অস্ট্রেলিয়ার আদলে চালু করা হবে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা। কমিয়ে আনা হবে সার্বিক অভিবাসন। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার জন্য (হেলথ সারচার্জ) অভিবাসীদের বছরে দিতে হবে ৬২৫ পাউন্ড। বরিস জনসন মনে করেন, যুক্তরাজ্যের বাসিন্দাদের দেওয়া করের টাকায় পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা অভিবাসীরা গ্রহণ করুক বা না করুক, ব্রিটেনে পা রাখার দিন থেকেই এই সেবার জন্য অভিবাসীদের অবদান নিশ্চিত করা যৌক্তিক। আবারও সরকার গঠন করলে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এ নিয়ম চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বর্তমানে ইইউ বহির্ভূত দেশের নাগরিকদের বড়ো অঙ্কের ভিসা ফির পাশাপাশি প্রতি বছর হেলথ সারচার্জ হিসেবে দিতে হয় ৪০০ পাউন্ড। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে বসতি গড়তে ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা আবেদন বা ভিসা ফি নেই। পরিশোধ করতে হয় না হেলথ সারচার্জও। এর বিপরীতে অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি। দলের নেতা জেরেমি করবিন জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উত্পাদন সবকিছুই যেহেতু অভিবাসীদের ওপর নির্ভরশীল, তাই লেবার পার্টির নীতি হবে অভিবাসীবান্ধব। অভিবাসীদের পরিবারকে ব্রিটেনে আনার ক্ষেত্রে আয়ের যে শর্ত বর্তমানে রয়েছে, তা দূর করে নিয়ম শিথিল করারও ঘোষণা দেন তিনি। এ নিয়েই এখন চলছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বাগিবতণ্ডা।
নির্বাচনে বিজয়ী হলে গ্যাস, বিদ্যুত্, পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ফিরিয়ে নিয়ে জনগণের দৈনন্দিন খরচ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন। একই সঙ্গে সম্পদের ওপর ধনী ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে তা সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের চরিত্র আমূল বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। লেবারের পার্টির এবারের নির্বাচনের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইটস টাইম ফর রিয়েল চেঞ্জ’ বা আসল পরিবর্তনের সময় এখনই।
কনজারভেটিক ও লেবার পার্টিসহ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে আটটি দল। দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন দুই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১টি আসনে মুসলিম প্রার্থীদের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এর মধ্যে ১৪টি করে লেবার ও কনজারভেটিভের এবং বাকি তিনটি এসএনপির।