শ্রীলঙ্কায় ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের ভাই গোতাবায়া রাজাপক্ষে নির্বাচিত হয়েছেন। মাহিন্দা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে গোতাবায়া ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। গোতাবায়া প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মাহিন্দাকে তার প্রধানমন্ত্রী করেছেন। সংগত কারণেই দেশটির রাজনীতিতে রাজাপক্ষে পরিবারের প্রত্যাবর্তনে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
মাহিন্দা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে শ্রীলঙ্কায় তিন দশক ধরে চলা তামিল বিদ্রোহ নির্মূল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তামিল গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটাতে গিয়ে রাজাপক্ষে সরকার মাত্রাতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে। নির্বিচার নিগ্রহের শিকার হয় তামিলরা। মানবাধিকার লঙ্ঘন ছাড়াও দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ ছিল ঐ সরকারের বিরুদ্ধে। ২৫ নভেম্বরের ঘটনা। কলম্বোর সুইস দূতাবাসে কর্মরত এক শ্রীলঙ্কান নারী কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির হাতে অপহূত হন। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খবরটি নিশ্চিত করেছে। ঐ নারীকে মোবাইল ফোন আনলক করে দূতাবাসের সব গোপন তথ্য দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অতিসম্প্রতি যেসব শ্রীলঙ্কান সুইজারল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন এবং যেসব শ্রীলঙ্কান তাদের এ কাজে সহায়তা করেছেন তাদের ডাটা ঐ মোবাইলে ছিল। ঐ নারীকে অবশ্য পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে এই বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছে যে, এ খবর বাইরে ফাঁস করা হলে তার প্রাণনাশ করা হবে। গোতাবায়া প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশ বিভাগের ৭০০ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই পুলিশদের কেউ কেউ রাজাপক্ষে পরিবারের দুর্নীতি তদন্তের কাজ করেছেন। তবে তিনি ঢালাওভাবে ৭০০ জনের ওপর ঐ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। রাজপক্ষের সমালোচনাকারী কয়েকটি মিডিয়া হাউজে সম্প্রতি পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে গেছে। পুলিশের দাবি, ঐ সব মিডিয়া ঘৃণা ছড়ানোর কাজে লিপ্ত ছিল।
রাজাপক্ষে পরিবার শ্রীলঙ্কায় ২০০৫ থেকে ১৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। তারা ক্ষমতায় থাকার শেষ কয় বছর প্রচুরসংখ্যক রাজনৈতিক বিরোধী অপহূত হয়েছেন। এসব অপহূতের পরে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রায় আড়াইশ লোক নিহত হওয়ার পর রাজনীতির মাঠে নিরাপত্তা একটি বড়ো ইস্যু হয়ে ওঠে। বলা যায়, এই ইস্যুই রাজাপক্ষে ভ্রাতৃদ্বয়কে ক্ষমতার রঙ্গমঞ্চে ফিরিয়েছে।