প্রকৃতিতে এখন জেঁকে বসেছে শীতের আমেজ। এই আমেজ গ্রামের প্রকৃতিকে কুয়াশার চাদরে পুরোপুরি মুড়িয়ে দিলেও পারেনি কোটি মানুষের ব্যস্ততার নগরী ঢাকাকে মুড়াতে। কনকনে শীত অনুভূত না হলেও দিনশেষে সন্ধ্যাবেলা এবং রাত পোহালে ভোরবেলার শীতের আবহ বেশ মনে করিয়ে দিচ্ছে গরম কাপড় কেনার কথা।
গরম কাপড় মানে এখন শুধু শাল-মাফলার না। শাল-মাফলারের যুগ শেষ করে গরম পোশাকের কাতারে যুক্ত হয়েছে পাশ্চাত্য নানা ধাঁচের গরম কাপড়। যার মধ্যে হুডিওয়ালা পোশাকগুলোর কদরটা সবচেয়ে বেশি। হুডিওয়ালা পোশাক বলছি এ কারণে যে, এখনকার আধুনিক রুচির মানুষজন, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তাদের শার্ট, গেঞ্জি (মেগি, ফুলহাতা), সোয়েটার এমনকি জ্যাকেটের সঙ্গে শীতের সময় হুডি চায়। ডিজিটাল যুগের মানুষের কাছে মাফলার বাড়তি ঝামেলা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সেটার কদর কমে মাথা থেকে গলাঅবধি নেমে এসেছে। অর্থাত্ বেশিরভাগ মানুষই এখন মাফলার দিয়ে কান না ঢেকে স্টাইল হিসেবে গলায় বাঁধছে। তাহলে শীতে কান ঢাকার কী হবে? সারা শীতে কান কি শুধু কাঁপাকাঁপির মধ্যেই থাকবে? সেটা তো হতে পারে না! তাই তো শীত উপলক্ষে সবাই এখন হুডিওয়ালা পোশাকই বেছে নিচ্ছে। ‘ঝুটঝামেলার দিন শেষ, বর্তমান সবাই একের ভিতর সব চায়। পোশাকের সঙ্গে হুডি থাকলে শীতের পোশাকে একের ভিতরে সব পাওয়া যায়। অর্থাত্ বাড়তি কোনো বোঝা টানার প্রয়োজন পড়ে না। তাছাড়া শীতের পোশাকে হুডি যোগ হওয়া মানে স্টাইলে নতুন সংযোজন। একটা সময় হুডি ব্যবহার হতো শুধু জ্যাকেটেই। জিপারওয়ালা বা জিপার ছাড়া বড় পকেট থাকত পোশাকে। জরুরি জিনিস বহন করা আবার মাথা ঢাকা দুটো প্রয়োজনই মিটত। তবে এখন রূপ বদলেছে এর। শুধু জ্যাকেট নয়, সোয়েটার, টি-শার্ট নানা ধরনের পোশাকেই হুড জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের জন্য করা হচ্ছে নানা কাটের টপ। সঙ্গে থাকছে হুড। ছেলেদের জন্য ফুল স্লিভ হুডি জ্যাকেট, হুডি সোয়েটার, ব্রকলাইন হুডি সোয়েটার, স্লিভলেস হুডি, বাটম্যান হুডির পাশাপাশি হুডিওয়ালা শার্টগুলোর কাটতি বেশি। হুডি শার্টগুলো মূলত কটন আর জিন্স ফেব্রিক্সে তৈরি। কটনের শার্টগুলো চেক, জিন্স ফেব্রিক্স হলো সাধারণত একরঙা। কয়েকটিতে থাকে বোতাম লাগনোর ব্যবস্থা। চেইন রয়েছে কিছু কিছু হুডিতে। গত বছর বোতাম দিয়ে লাগানো হুডি শার্ট বেশি চললেও এবার ফিক্সড হুডি ও চেইন হুডি বেশি জনপ্রিয়। এ বছর হুডি টি-শার্টে ডিজাইনের বৈচিত্র্য বেশি দেখা যাচ্ছে। সাধারণত একরঙা, বিভিন্ন প্রিন্ট আর ব্লকের কাজ করা হুডিগুলো ফুলহাতা। আর হুডি জ্যাকেটের মধ্যে কটন, লেদার ও জিন্স আইটেমগুলোই এবার বেশি। একরঙার পাশাপাশি বিভিন্ন রঙের হুডি জ্যাকেট এবার দেখা যাচ্ছে। নীট ফেব্রিকে রয়েছে ভ্যারাইটি কালারের হুডি। একটু মোটা ফেব্রিকে ফুল স্লিভের শার্ট যা এই শীতের জন্য উপযোগী।
অন্যদিকে মেয়েদের সুতি, জর্জেট কাপড়ের পোশাকের সঙ্গেও হয়েছে হুডির সংযোজন। এসেছে নানা রঙের স্ট্রাইপ দেওয়া হুডি টপ। খাটো হাতার এসব টপের সঙ্গে বিপরীত রঙা টি-শার্ট পরা যেতে পারে। এসবের মধ্যে ছাই, কালো, ঘন নীল, মেরুন এই রঙগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে। চামড়ার তৈরি হুডসহ জ্যাকেটেও আছে। তবে এর দাম তুলনামূলক বেশি। মেয়েরা স্কার্টের সঙ্গেও হুডি পরতে পারেন।
দরদাম :হুডি টি-শার্ট এবং শার্ট পাওয়া যাবে ৭০০-২০০০ টাকার মধ্যে, হুডি জ্যাকেট পাবেন ১২০০-৩০০০ টাকার মধ্যে এবং মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের হুডিওয়ালা পোশাক পেতে পারেন ৮০০-৪০০০ টাকার মধ্যে।
প্রাপ্তিস্থান :বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলোর পাশাপাশি নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, বঙ্গবাজারসহ বসুন্ধরা সিটির মতো নগরীর অভিজাত শপিং মলগুলোতেও বেশ হুডি কালেকশন রয়েছে। রাজধানীর হকার্স মার্কেটে গেলে পাবেন মেয়েদের জন্য বিভিন্ন কালারের হুডিওয়ালা ওভারকোট। ছেলেদের জন্যও হুডিওয়ালা ওভারকোট পাওয়া যাচ্ছে।