রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহিদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর ছাত্রদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে দ্রুততার সঙ্গে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ পাশ হয়। আইন পাশের এক বছর পর গত ১ নভেম্বর আইনটি কার্যকর শুরু হয়। কিন্তু পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের আন্দোলনের মুখে এর কার্যকারিতা আগামী বছর ৩০ জুন পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। তবে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের তেমন সুফল না মিললেও একটি বিষয়ে সুফল মিলেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সফলতা হচ্ছে মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রী উভয়ের মাথায় হেলমেট উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তরুণ প্রজম্মের আন্দোলন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল, কীভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হয়। কিন্তু আন্দোলন শেষ হওয়ার পর সেই আগের অবস্থায় ফিরে যায় সড়ক। আগের মতোই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চলছে গাড়ি। তবে সফলতা একটাই, রাস্তায় বের হলে এখন সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি চোখে পড়ে, তা হচ্ছে মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রী উভয়ের মাথায়ই থাকে হেলমেট। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পুলিশ বাইক-আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার করানোর ব্যাপারে বেশ কঠোর হয়। বাইকচালকের পাশাপাশি পেছনের যাত্রীকেও হেলমেট পরতে বাধ্য করা হয়। বাইকের ব্যাপারে পুলিশের কঠোর মনোভাবের কারণে এ পরিবর্তন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
মোটরসাইকেলের বেশ কয়েকজন চালক জানান, হেলমেট অনেক বড়ো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করে। কিন্তু আগে এটা জেনেও কেউ মানতে চাইতেন না। তবে এখন নিজ থেকেই সবাই সচেতন হয়েছেন। এটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। হেলমেটের মতো সড়কের অন্য বিষয়গুলোতেও যদি প্রশাসন কঠোর হয়, তবে সবকিছুই মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।