নৈরাজ্যের চেষ্টা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে -------ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে বলেছেন, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষ্যে গঠিত মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তারা বিচার মানে না, আদালত মানে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি যদি রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন করে, তাহলে আমরা তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব। কিন্তু তারা যদি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। বিএনপি মাহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন বিএনপি হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে টাকা বানানোর পাওয়ার সেন্টার সৃষ্টি করেছিল। আওয়ামী লীগ তা করেনি বরং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ ঘর থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন সাদামাটাভাবে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী। ৮ ডিসেম্বর থেকে কাউন্টডাউন শুরু হবে। তাই এবারে সম্মেলন সাদা-মাটাভাবে করা হবে।

মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটির আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটির সদস্য সচিব মির্জা আযম, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটি ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করবে। সম্মেলনস্থল পরিদর্শনের জন্য পরে চার দিন (১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর) সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আওয়ামী লীগের ২১তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানী থেকে আন্তঃবাস টার্মিনাল সরানো হবে

এদিকে রাজধানীর নগরভবনে গতকাল ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষর (ডিটিসিএ) বোর্ড সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে ক্রমান্বয়ে রাজধানী থেকে আন্তঃবাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হবে। এজন্য স্থান নির্ধারণসহ অন্যান্য কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবহনসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানেও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজধানী ঢাকার সড়কে ৬৪টি স্থানে বাস স্টপেজ নির্মাণ করে দেওয়া হবে। রাজউক থেকে ভবনের অনুমোদনের সময় ডিটিসিএ’র ক্লিয়ারেন্স লাগবে। এছাড়া বাস-বে নির্মাণের জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদ করে সিটি ফরেস্ট নির্মাণ করবে সিটি করপোরেশন। আর ধুলাদূষণের জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জন্য একটি কম্প্রিহেনসিভ ট্রান্সপোর্ট তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতির কারণে রাজধানীর সড়ক থেকে অবৈধ রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং অবৈধ যানবাহন উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।