সিঁড়িতেই ক্লাস নিলেন অধ্যাপক রুশাদ ফরিদি

রবিবার দুপুর ১২টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সিঁড়িতে জড়ো হয়েছেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের কেউ অর্থনীতি বিভাগের, কেউবা অন্য কোনো বিভাগ থেকে আসা শিক্ষার্থী। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. রুশাদ ফরিদিকে ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে এবং তার সমর্থনে সিঁড়িতে বসে এই ক্লাস করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষে দেড় ঘণ্টার ক্লাসের পর দুপুর দেড়টায় সিঁড়িতে ক্লাস শেষ হয়। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসে প্রবেশের সুযোগ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদস্বরূপ এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ড. রুশাদ ফরিদিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯ জুলাই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন রুশাদ ফরিদি। চলতি বছরের ২৫ আগস্ট বাধ্যতামূলক ছুটির বিষয়টি অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। তা সত্ত্বেও বিভাগে ফিরতে পারছেন না এই শিক্ষক। নিজের ক্লাসে ফেরত যাওয়ার জন্য প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এবার সিঁড়িতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন তিনি।

ক্লাসে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থী নাইমুল সিফাত নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্যারকে ক্লাসে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে না। এর প্রতিবাদস্বরূপ আমরা এখানে জড়ো হয়েছি। কোনো মিছিল-মিটিং নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, প্রশাসন ও বিভাগের শিক্ষকেরা না চাইলেও আমরা স্যারের সঙ্গে ক্লাস করতে চাই।’

রুশাদ ফরিদির ক্লাস সম্পর্কে সুমাইয়া আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং ছাত্রদের প্রতি কর্তব্যবোধের কারণে দিনের পর দিন নিজের ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পচনশীল রাজনীতির প্রমাণ এটি।’

এর আগে শনিবার ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে এক ইভেন্ট পোস্টে সিঁড়িতে ক্লাস নেবেন বলে জানান ড. রুশাদ ফরিদি। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ক্লাসে ফিরতে না পারলেও ক্লাসের বাইরে সিঁড়িতে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। উদ্যোগী ছাত্রদের অনেক ধন্যবাদ।’ ড. রুশাদ ফরিদি বলেন, “শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবাদস্বরূপ হলেও ‘সিরিয়াস ক্লাস’ নেওয়া হবে।” তিনি জানান, ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। যত দিন ক্লাসে যেতে দেওয়া না হবে, তত দিন এই প্রতিবাদ চলবে।