চলতি শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ফাতেমা খাতুন ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না।
ফাতেমার বাবা মোঃ ইউসুফ আলী জানান, তিনি উপজেলার তিলকপুর মোড়ের ছোট একজন চা বিক্রেতা। ৩ শতাংশ বাড়ির জমিটি ছাড়া যার আর কিছুই নেই। মেয়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও ভর্তি করানোর ও পড়ানোর টাকা নেই।
ফাতেমার বড় বোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান (সম্মান) বিভাগের ৪র্থ বর্ষে অধ্যায়নরত। ৬৫ বছর বয়সে শুধু চায়ের দোকানের ওপর নির্ভর করে দুই মেয়ের লেখাপড়া করানো সম্ভব না বলে তিনি জানান।
জানা যায়, ফাতেমা খাতুনের বাড়ি লালপুর উপজেলার তিলকপুর গ্রামে। সে পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫, জেএসসি তে জিপিএ-৫, এসএসসি জিপিএ-৫ পেলেও পরীক্ষার সময় অসুস্থ থাকায় এইচএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ-৪.৯২। ফাতেমা এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘ক’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ৭৪৭তম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ‘খ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ৩৩৪, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খ’ ইউনিটে ১৮৩, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ১৪তম জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গ’ ইউনিটে ৪৯৫তম হয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
ফাতেমা বলেন, ভর্তি হতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা লাগবে কিন্তু ভর্তির টাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ জোগানো তার পক্ষে অসম্ভব। তাই তিনি তাকিয়ে আছেন সমাজের বিবেকবানদের দিকে। একটু সহানুভূতিই তাকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন সফল করে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫
ফাতেমা আরও বলেন, আমি আল্লাহর রহমতে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন, আমি যেন শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত না হয়ে একজন সুশিক্ষিত ও ভালো মানুষ হতে পারি।
ইত্তেফাক/নূহু