আবারও চরম ব্যর্থ পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক

আরেকটি হারের শঙ্কা নিয়ে চতুর্থ দিন মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান দল। অনিশ্চয়তা ছিল শুধু ব্যবধানটা নিয়ে। ইনিংস হার এড়াতে পারবে কি পারবে না আজহার আলীর দল—সেই নিয়ে ছিল আলোচনা। পাকিস্তান পারেনি। প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টেও ইনিংস ব্যবধানেই হেরেছে সফরকারীরা।

এবারের ব্যবধানটা আরো বড়ো। অ্যাডিলেডে পাকিস্তানের হারের ব্যবধান ইনিংস ৪৮ রান। নতুন করে অধিনায়কত্ব পাওয়ার শুরুটা তিক্ত অভিজ্ঞতাই দিয়ে গেল আজহার আলীকে।

১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে এখন অবধি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাকিস্তান দল যে ১৪টা টেস্ট খেলেছে, হেরেছে তার সবগুলোতেই। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটাই টেস্টে কোনো সফরকারী দলের টানা সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড। এর আগে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৭ সাল অবধি দেশটিতে টানা ৯টি টেস্ট হেরেছে ভারত। একই লজ্জার রেকর্ড আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও। তারা ২০০০ সাল থেকে ২০০৯ সাল অবধি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টানা ৯ টেস্ট হেরেছে। এর বাদে টানা আটটি করে টেস্ট অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯১১-১৯৫২) ও ইংল্যান্ড (১৯২০-১৯২৫ ও ২০১৩-২০১৭)।

চতুর্থ দিন সকালে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক অফস্পিনার নাথান লিঁও। তিনি নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। এছাড়া পেসার জশ হ্যাজেলউড নেন তিনটি উইকেট। পাকিস্তানের পক্ষে লড়াই হয়েছে খুব সামান্যই। চতুর্থ দিন খেলতে নেমে আবার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে শুরু করে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। সর্বোচ্চ ৬৮ রান আসে ওপেনার শান মাসুদের ব্যাট থেকে। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা।

হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন আসাদ শফিকও। তিনি করেছেন ৫৭ রান। এছাড়া উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাট থেকে আসে ৪৫ রান। তিন উইকেটে ৩৯ রান দিয়ে দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। অলআউট হওয়ার আগে আর মাত্র ২০০ রান যোগ করতে পারে দলটি।

স্বপ্নের মতো একটা সিরিজ কাটালেন ডেভিড ওয়ার্নার। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি। আর সদ্য শেষ হওয়া দ্বিতীয় টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি। মাত্র দুই ইনিংস খেলেই করেছেন ৪৮৯ রান। ফলে, ম্যাচসেরা ও সিরিজ সেরা—দুটো পুরস্কারই তাই উঠেছে ওয়ার্নারের হাতে। অথচ, কদিন আগেই অ্যাশেজে বেশ বাজে সময় কাটিয়েছেন। সেটা এতটাই যে দলে তার জায়গা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। তবে, নির্বাচকরা আস্থা রেখেছিল তার ওপর। তিনি সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন।

১৯৯৯

সাল থেকে

অস্ট্রেলিয়ার

মাটিতে

পাকিস্তান

১৯৯৯ — অস্ট্রেলিয়া ৩-০ ব্যবধানে জয়ী

২০০৪ — অস্ট্রেলিয়া ৩-০ ব্যবধানে জয়ী

২০০৯ — অস্ট্রেলিয়া ৩-০ ব্যবধানে জয়ী

২০১৬ — অস্ট্রেলিয়া ৩-০ ব্যবধানে জয়ী

২০১৯ — অস্ট্রেলিয়া ২-০ ব্যবধানে জয়ী