বিএনপি সরকারের আমলে ডাচ্ কোম্পানি টিউলিপ কম্পিউটার্সের সঙ্গে তিনটি কারণে চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ওই চুক্তি বাতিল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।
গতকাল সোমবার বিকালে দলের নয়াপল্টনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার এই চুক্তি বাতিল করেছিল তিনটি কারণে। এক. আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় দ্বিগুণ মূল্যে কম্পিউটার কেনার এই চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি বাতিলের পর বিএনপি সরকার অন্যান্য দেশ থেকে টিউলিপের সঙ্গে চুক্তির প্রায় অর্ধেক দামে কম্পিউটার আমদানি করেছিল। দুই. চুক্তির শর্তাবলির সবই ছিল ওই কোম্পানির পক্ষে এবং বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। তিন. চুক্তির শর্তানুযায়ী নেদারল্যান্ডস অনুদানের প্রায় ৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশকে দেয়নি।
তিনি আরো বলেন, চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের অভ্যন্তরীণ আদালতের রায় অনুযায়ী বিএনপি সরকার এবং পরবর্তীকালে জরুরি অবস্থার সরকার কেউই ক্ষতিপূরণ দেয়নি। সিদ্ধান্ত ছিল আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আইনি লড়াই ছেড়ে দিয়ে ওই কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিল রাষ্ট্রীয় অর্থে। অথচ বাংলাদেশ ডাচ্ সরকারের কাছ থেকে একটি টাকাও পায়নি কিংবা পায়নি একটি কম্পিউটারও।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দেড় যুগ আগে চুক্তি করেও খালেদা জিয়ার ঈর্ষার কারণেই নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ কোম্পানির কম্পিউটার না নেওয়ায় বাংলাদেশকে ৩২ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছিল। খালেদা জিয়াকে তার দল থেকে বোঝানো হয়েছিল যে, শেখ রেহানার মেয়ের নাম টিউলিপ। নেদারল্যান্ডসের ওই কোম্পানির নামও টিউলিপ। কাজেই ওদের কাছ থেকে কম্পিউটার নেওয়া যাবে না।’
এ প্রসঙ্গে রিজভী গতকাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্য দিয়ে তার সরকারের দুর্নীতি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী একটি চুক্তিকে আড়াল করতে চেয়েছেন। বর্তমান সরকার ২০১২ সালে একবার ‘দোয়েল কম্পিউটার’ নামে একটি প্রকল্প উদ্বোধন করেছিল। বিপুল অর্থের সেই ‘দোয়েল’ এখন কোথায় উড়ে গেছে তা দেশের মানুষ কিছুই জানে না।