রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও বিচার অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত : পররাষ্ট্র সচিব

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে আগামী ১০ ডিসেম্বর। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বিষয়ে বাংলাদেশের যা যা করার, সবই করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে। এ বিষয়ে আইনি মতামত দেশের ভেতরে-বাইরে থেকে নেওয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়া চলছে। রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের মনোভাব হচ্ছে, এটি মানবিক কূটনীতি এবং এর সঙ্গে বিচারিক ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ২০১৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন, তখন তিনি অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বলেছিলেন, এরা (রোহিঙ্গারা) যে চলে এসেছে তার মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এবং কেন তারা যেতে চাচ্ছে না, এটি খুঁজতে গিয়ে দায়বদ্ধতা ও বিচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দায়বদ্ধতা ও বিচার নিশ্চিত করলে তারা আবার নিজ দেশে ফেরত যাবে। এরা বাংলাদেশে আসে এবং ফিরে যায়। সম্ভবত এর কারণ হচ্ছে দায়বদ্ধতার বিষয়টি সমাধান করা হয়নি।’

মামলা হওয়ার কারণে প্রত্যাবাসন থমকে যাবে কি না জানতে চাইলে শহীদুল হক বলেন, ‘আমরা দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিকভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। ২০১৭ সালে যখন এই সমস্যা শুরু হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে জাতিসংঘে নিয়ে গেছেন। সুতরাং মিয়ানমার তখন থেকেই জানে, আমরা দুই দিকেই চেষ্টা করছি। বিষয়টি একে অপরের পরিপূরক। প্রত্যাবাসন ও বিচার অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কারণ, এর আগেও প্রত্যাবাসন হয়েছে ১৯৭৮-৭৯ সালে, ’৯০-এর দশকে হয়েছে। একই রোহিঙ্গারা ফেরত গেছে এবং আবার বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। সুতরাং তারা যাতে আর ফিরে না আসে তার জন্য দায়বদ্ধতা অত্যন্ত জরুরি।’