সচেতনতাই লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধের হাতিয়ার

সমাজ থেকে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা দূর করতে সচেতনতাই সবচেয়ে ভালো হাতিয়ার। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা কেবলমাত্র বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই একটি বড় সমস্যা। সচেতনতা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারলে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। নিশ্চিত করা যাবে নারীদের জন্য এক নিরাপদ পৃথিবী।

 

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০১৯ পালনের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ইউএনএফপিএ, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং কেয়ার বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানটির প্রতিপাদ্য ছিলো ‘নারী পুরুষ সমতা, রুখতে পারে সহিংসতা’।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতেইও স্বাগত বক্তব্যে অ্যাকশন এইডের উপ পরিচালক শাহরিয়ার কবির চৌধুরী। এ সময় নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে অ্যাকশন এইডের গবেষণা তুলে ধরেন তিনি। শাহরিয়ার কবির বলেন, বাংলাদেশে এক বছরে ১২শ’র বেশি নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হন। যার মধ্যে ৬শ’র বেশি হচ্ছে শিশু। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি চিন্তা করলেও আমরা শিউরে উঠি। নারীদের যেমন আত্মরক্ষার কৌশল শেখা জরুরি, তেমনি পুরুষের জন্যও জরুরি। পুরুষ যদি আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে পারে তাহলে সে আরেকজন নারীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে পারবে। নারীদের অবশ্যই জানা উচিত কিভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হয়।

 

এ সময় আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ির বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

 

মহিলা অধিদফতরের উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) সুলতানা রাজিয়া বলেন, আমরা একই উদ্দেশ্যে কাজ করছি। আমরা সবাই চাই নারী নির্যাতন বন্ধ হোক। আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশে কোনো প্রকার নির্যাতন থাকবে না।

 

এরপর টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে রুপা খাতুনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার একটি ধারাবাহিক চিত্র এনিমেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। এনিমেশন উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক দিপু মাহমুদ এবং নুসরাত রাইসা।

 

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ১০ হাজারের বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কখনো কখনো ধর্ষণের শিকার ভিকটিম ন্যায় বিচার পাচ্ছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, সুবিধাবঞ্চিতরা বিচারহীনতার শিকার হন। আমরা যখন বিজয়ের সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলাম, তখনকি এমন দেশ চেয়েছিলাম?

 

ইত্তেফাক/এএম