অঙ্কের বিচারে নন্দিত অভিনেত্রী দিলারা জামানের বয়স এখন ৭৬। যদিও নিয়মিত অভিনয় আর মাঝে মাঝে গেটআপ বদল করে এসব বয়সের অঙ্ক উড়িয়ে দেন বাউন্ডারির বাইরে। ১৯৬৫ সালে অভিনয় শুরু, এখনও অভিনয় করে নিয়মিত দ্যুতি ছড়াচ্ছেন। সম্প্রতি এই গুণী অভিনেত্রী নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে—
আপনাকে প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন লুকে দেখা যায়। বিষয়টি কেমন উপভোগ করেন?
গল্প ও চরিত্রের কারণেই তো! আসলে চাহিদা অনুযায়ী সব চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। এক ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার মধ্যে একঘেঁয়ে ব্যাপার থাকে, আর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার মাঝে এক ধরনের আনন্দ থাকে। দর্শকরাও আমাকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখতে পছন্দ করেন। সেই জায়গা থেকে বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করে বেশ সাড়া পাই। অন্যদিকে আমার বয়স অনুযায়ী যে চরিত্রগুলো যায় ভালোবেসে সেগুলোও করার চেষ্টা করি।
জীবন বহমান, এই বয়সে নিজের ভেতর কোনো পরিবর্তন অনুভব করেন?
জীবন এক বহমান নদী, এটা তো চিরন্তন সত্য। বয়স যত বাড়ছে, ততই পরিবর্তিত হচ্ছি। ক্লান্তি বেশ জেঁকে আছে, রোগ-ব্যাধি তো আছেই। আমার দুটি মেয়ে, দু’জনই বিদেশে। সেখানে থাকা, চিকিত্সা সবকিছুর সুযোগ-সুবিধা বেশি ছিল। কিন্তু আমি সব ফেলে দেশের মানুষের কাছে চলে এসেছি। সবার সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়, আড্ডা হয়, বেশ ভালো লাগে।
নাটক, সিনেমা, মঞ্চ, বিজ্ঞাপনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন আপনি। জীবনের পড়ন্ত বিকেলে এসে কখনো কী মনে হয়েছে পছন্দের কোনো চরিত্রে কাজ করা এখনও বাকি?
আমার মনে হয়, এখনও সেরা কাজটাই করিনি। জানি না কখন তৃপ্তি পাবো কি-না! আসলে কাজের ক্ষেত্রে একজন শিল্পীর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোনো তৃপ্তি নেই। এমন একটা চরিত্র যেটা সারাজীবন মানুষের মনে থাকবে, একটা অমর কিছু হয়ে থাকবে।
আপনার অভিনয় শুরুর সময় আর এখনকার নাটকের মধ্যে কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করেন?
পার্থক্যটা অনেক। তখন এত প্রযুক্তি ছিল না। এখন কত সুযোগ-সুবিধা। সুতরাং ছেলেমেয়েরা অনেককিছু জেনে, শিখে কাজ করতে আসছে। তারা অনেক ভালো কিছু দিতে পারছে। শেখার তো শেষ নেই। আমি এখনও নতুনদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি, যেগুলো জানি না।