ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় হাফপ্যান্ট পরা ডাকাত বাহিনীর উপদ্রব শুরু হয়েছে। ডাকাতদের পরনে হাফপ্যান্ট ও মুখে মুখোশ থাকে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
১ ডিসেম্বর রাতে ফতেপুর গ্রামের চাঁদপুর পাড়ায় আবুল কালাম আজাদ (ভোলা সরদার) এর বাড়িতে ১০-১২ জনের একদল ডাকাত হানা দেয়। তারা গ্রিল ভেঙে ঘরের ভেতর ঢুকে অস্ত্রেরমুখে বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে। নগদ ৩০ হাজার টাকা, সাত-আট ভরি স্বর্ণালংকার ও তিনটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। প্রতিবেশীদের ডাকচিত্কার শুনে টহল পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। তার আগেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এর আগের দিন ৩০ নভেম্বর রাত ২টার দিকে একদল ডাকাত পুরন্দরপুর গ্রামের মুসা মন্ডলের বাড়িতে হানা দেয়। মুসা মন্ডল জানান, তিনি ঢাকাতে ব্যবসা করেন। ডাকাতদের পরনে হাফপ্যান্ট ও মুখে মুখোশ ছিল। গ্রিলের তালা ভেঙে ১৫-১৬ জনের একদল ডাকাত ঘরে ঢুকে বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে নগদ ৬৭ হাজার টাকা, ছয় ভরি সোনার গহনা ও দুইটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। তিনি ভয়ে থানায় মামলা দেননি বলে জানান। ২৫ নভেম্বর রাতে একদল ডাকাত বিদ্যাধরপুর গ্রামের প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকা নাজমা খাতুনের বাসায় ঢুকে নগদ ৬৫ হাজার টাকা, দুই ভরি সোনার গহনা লুট করে নিয়ে যায়। ঐ দিন রাতেই ডাকাতরা পাশের ফ্ল্যাটের সাইদ হোসেনের বাসায় হানা দিয়ে নগদ ৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মহেশপুর খানায় মামলা হয়েছে। ১ নভেম্বর রাতে জিন্নানগর বাজারের পাহারাদারদের বেঁধে তিনটি দোকানে ডাকাতি হয়। ২৭ নভেম্বর রাতে কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কের পুরন্দরপুরে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয় ডাকাতরা। তারা সাতটি ট্রাকে ডাকাতি করে। একটি নৈশ কোচে ডাকাতির চেষ্টাকালে সড়কে টহল পুলিশের একটি দল চলে আসে। ডাকাতরা পুলিশ দেখে পালিয়ে যায়।
মহেশপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম আমান উল্লাহ জানান, বিদ্যাধরপুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অন্য ঘটনাগুলোতে মামলা দেয়নি। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, ঘটনা জানার পর পুলিশকে ডাকাতদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। শিগগিরই ডাকাতরা ধরা পড়বে।