বিভিন্ন সংকট ও জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাইতেছে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। অনিয়ম-দুর্নীতি, নিয়োগ ও উন্নয়ন কাজে ঘুষ লেনদেনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠিয়াছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। ইহার প্রতিবাদে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলিতেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এইরূপ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিতেছেন সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী। বিদ্যমান অস্থিরতার কারণে বন্ধ হইয়া রহিয়াছে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে সর্বশেষ ৫ নভেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হইয়াছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ইহাতে নানামুখী সংকটে পড়িয়াছেন উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আশঙ্কা করা হইতেছে সেশনজটের।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট গত তিন মাসের। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়া ছাত্রলীগকে বড়ো অঙ্কের আর্থিক সুবিধা প্রদানের অভিযোগের তদন্তের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ২৩ আগস্ট শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৮ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে রূপ নেয়। বাঁধিয়া দেওয়া সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন মোড় নেয় উপাচার্যের অপসারণ দাবির আন্দোলনে। ১০ দিন উপাচার্যের কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখার পর ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। পরদিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাহাদের জোরপূর্বক সরাইয়া দেন। ঐদিনই জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত এই সংকট নিরসনের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাইতেছে না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হইতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নাই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দীর্ঘমেয়াদি সেশনজট সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হইয়াছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলতি মাসে হওয়ার কথা ছিল। জানা গিয়াছে, আগে থেকেই বেশ কয়েকটি বিভাগে সেশনজট রহিয়াছে। কলা ও মানবিক অনুষদের বাংলা বিভাগ ছাড়া বাকি আটটি বিভাগে ছয় মাস থেকে এক বছরের সেশনজট রহিয়াছে। সমাজবিজ্ঞান অনুষদে সরকার ও রাজনীতি বিভাগ ছাড়া বাকি পাঁচটি বিভাগেই ছয় মাস থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সেশনজট রহিয়াছে। অন্য কয়েকটি বিভাগেও সেশনজট রহিয়াছে যাহা বর্তমান সংকটপূর্ণ অবস্থায় আরো দীর্ঘায়িত হইতে পারে। চলমান এ অচলাবস্থা নিরসন করিতে সংশ্লিষ্ট কোনো মহলই আগাইয়া আসিতেছে না, যাহা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।
সেশনজট আমাদের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘদিন যাবত্ একটি কালো অধ্যায় হইয়া ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি অনেকটাই কমিয়া আসিয়াছে। দেখিতে হইবে বিদ্যমান আন্দোলন-অবরোধে এটি যেন পুনরায় ফিরিয়া না আসে। আমরা মনে করি, এ সংকট কাটাইয়া উঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা লইয়া আগাইয়া আসিতে হইবে। পাশাপাশি পূর্বাপর ঘটনাবলি খতাইয়া দেখিয়া যাহারা দোষী তাহাদের শাস্তি নিশ্চিত করিতে হইবে। অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম চালু করিতে হইবে। সেশনজটে পড়িয়া শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হইবে—তাহা কোনোভাবেই কাম্য হইতে পারে না।