এসএ গেমস ফুটবল

বাংলাদেশের টিকে থাকার লড়াই আজ

এবারের এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণ জয়ের প্রবল সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব—২৩ জাতীয় ফুটবল দলের। কারণ ভারত, পাকিস্তান কোনো দলই নেই ফুটবলে। বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকরা মনে করেন এই দুটি দেশ না থাকা মানে বাংলাদেশের সামনে বাধা কম। বিশেষ করে শক্তিশালী দেশ ভারত নেই। নাবীব নেওয়াজ জীবন, বিপলু, রবিউল, গোলকিপার জিকো, ইব্রাহিম, রহমত মিয়া, সাদ উদ্দিনদের জন্য সহজ সুযোগ ছিল। প্রতিপক্ষ বলতে নেপাল ও মালদ্বীপই ছিল শক্তিশালী। ফুটবলের এমন লড়াইয়ে বাংলাদেশ অন্যতম টপফেভারিট ছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকও আশায় ছিলেন ফাইনাল প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু প্রথম ম্যাচে ভুটানের কাছে ১-০ গোলের হার এবং দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় পাঁচ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এখন সবার নিচে।

বাংলাদেশ আজ তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে। এটি তৃতীয় ম্যাচ। জিততেই হবে। গোল গড়ের হিসাব আছে কি না জানা যায়নি। যদি গোল গড়ের হিসাব থেকে থাকে তাহলে সেটা মাথায় রেখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড়ো জয় তুলে নিতে হবে। পরের হিসাব পরে হবে এখন লঙ্কানদের বিপক্ষে একটা স্বস্তির জয় দরকার। গেমস ফুটবলে টিকে থাকার জন্য জয় দরকার। এমন নয় যে, জিতলেই সব কুল রক্ষা হয়ে যাবে। জয়টা তুলে নিয়ে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে জয় পাওয়া কঠিন। তার পরও যদি ধরেই নেওয়া হয় নেপালকে হারাবে বাংলাদেশ তার পরও নিশ্চিত না বাংলাদেশের ফাইনাল। এই মুহূর্তে ফুটবল দলের যে পরিস্থিতি তাতে বলা যায় বাংলাদেশে সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। আশার প্রদীপ প্রায় নিভু নিভু করছে। বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকও আশা ছেড়ে দিচ্ছেন। মনে করছেন আর হবে না। দর্শক যেটাই মনে করুক ফুটবলে এখনো বাংলাদেশের বিদায় হয়ে যায়নি। লিগ পদ্ধতির খেলা। পাঁচ দল খেলছে। সবার সঙ্গে সবার খেলা হবে। অন্যরা কি করছে সেটাও দেখতে হবে।

বাংলাদেশের ফুটবলাররা কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দারুণ খেলেছে। দিন বদলে যাওয়ার মতো ফুটবল খেলেছিল। কিন্তু ১৩তম এসএ গেমস ফুটবলে খেলতে গিয়ে হতাশায় ডুবিয়েছে। কোনো অনুশীলন ছাড়াই নেপালে গিয়েছিল অনূর্ধ্ব—২৩ ফুটবল দল। বসুন্ধরা কিংস আট ফুটবলারদের ছাড়েনি। জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্বে থাকা কমিটিও গেমস ফুটবলে যাওয়া নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেনি। যখন-তখন কোচ ছুটিতে। খেলোয়াড় কে কি পারফরম্যান্স করছে তা নিয়েও মূল্যায়ন নেই। ধরে নিয়েছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে হারলেও ভালো হচ্ছে পারফরম্যান্স, তাই এসএ গেমসও হবে। সেটি হলো না। নেপালে গিয়ে মাত্র তিন দিন সময় পেয়েছিল অনূর্ধ্ব—২৩ ফুটবল দল। সেখানে আগে থেকে অনুশীলন না করলে সমস্যা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে উচ্চতায় হওয়ার কারণে নেপালে মানিয়ে নেওয়ার একটা ব্যাপার থেকে যায়। তবে সব শেষ কথা হচ্ছে—ফুটবল দল খারাপ করায় এখন প্রশ্ন উঠছে। ভালো খেললে এতটা কথাও হতো না। ইংলিশ কোচ জেমি ডে কোনোভাবেই বুঝে উঠতে পারছেন না কি হচ্ছে। জীবন, সাদ উদ্দিনরা গোলের পর গোল মিস করে দলকে ভোগাচ্ছেন। রেফারিংও ভালো হয়নি মালদ্বীপের বিপক্ষে। তাছাড়া ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ম্যাচ খেলতে হয়েছে। আজ নতুন করে ঝেড়ে উঠার পরিকল্পনা জামাল ভুঁইয়াদের।