কাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে মানুষ কর্মসংস্থান চায় ------আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, ‘আমাদের উন্নত হতে হবে। উন্নয়নের পথ অনেক দীর্ঘ। তবে এটাও সত্য, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষ এখন কর্মসংস্থানও চায়। সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যবস্থা করে বটে, কিন্তু কর্মসংস্থানের জন্য কলকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিকাজ ইত্যাদির সুযোগ বেসরকারিভাবেই সৃষ্টি করতে হয়; যা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আর এর জন্য প্রয়োজন মানুষের ঐক্য।’

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের পাঙ্গাসিয়া-শংকরপুর বাজারে এক মতবিনিময় সভায় সমবেত গ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। জেপির চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘একতা এবং কাজ হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আমরা কাউখালী-ভাণ্ডারিয়াসহ এই অঞ্চলে ৩৪ বছর ধরে যে কথা বলে এসেছি তা হলো, মানুষের মধ্যে একতা না থাকলে উন্নয়নকর্ম সম্ভব হয় না। আমাদের সন্তানেরা লেখাপড়া করে শিক্ষিত হয়ে কর্মসংস্থান চাইবে। এটাই হচ্ছে উন্নয়নের নিদর্শন। দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশে কাজ হচ্ছে, এখন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করে ঝড়-ঝঞ্ঝা, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস তথা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করে জীবন ধারণ করি। এই জোয়ার-ভাটার দেশের রাজনীতিও প্রকৃতির মতো পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে।’

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, ‘৩৪ বছর আগে যখন প্রথম এই অঞ্চলে এসেছি, তখন এখানে আজকের মতো রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট ইত্যাদি অবকাঠামোগত সুবিধা ছিল না। দিনের পর দিন, মাইলের পর মাইল হেঁটে ভাণ্ডারিয়া-কাউখালীতে জনগণের কাছে গিয়েছি। আজ বা আগামীতে যারা এ এলাকায় আসা-যাওয়া করছেন বা আসবেন, তারা গাড়িতে চড়েই গাঁও-গ্রামে ঘুরবেন। অথচ এই যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি করতে আমাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এখন আল্লাহর ইচ্ছায় এলাকাবাসী ভালো আছেন, ভবিষ্যতেও ভালো থাকবেন। ৩৪ বছর আগে থেকে সংসদে রয়েছি, ১৮ বছর মন্ত্রিত্ব করেছি। এই সৌভাগ্য আল্লাহতায়ালার অসীম রহমতে অর্জন করেছি।’

শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি-জেপির সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. খালেদা খাতুন রেখা, জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু ও স্থানীয় যুবকর্মী ফখরুল ইসলাম সজল। রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাউখালী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত-বিপন্ন মানুষের জন্য যে ত্রাণ সাহায্য এ এলাকায় বরাদ্দ করা হয়েছে, তা সঠিকভাবে ও সততার সঙ্গে বিতরণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী যাতে সবাই ঢেউটিন, কম্বলসহ ত্রাণসামগ্রী পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় জেপির চেয়ারম্যান কাউখালী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঢেউটিন ও চেক বিতরণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, ইউএনও মোসা. খালেদা খাতুন রেখা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, কাউখালী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন, শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার মো. দেলোয়ার হোসেন, চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান খোকন, আমড়াজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দোহা চাঁদ, সয়না-রঘুনাথপুরের ইউপি চেয়ারম্যান এলিজা সাঈদ, জেলা পরিষদ সদস্য শাহজাদী রেবেকা শাহীন চৈতী প্রমুখ। এছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেপির উপজেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম নসু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, আওয়ামী লীগের উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুনীল কুন্ডু প্রমুখ।  

রাতে কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের বেকুটিয়া ফেরিঘাটের উত্তর পাশের খালের পাড় থেকে বড় বেকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অভিমুখের রাস্তায় হেরিংবোনকরণ (এইচবিবি) (বেকুটিয়া-রাজাপুর আরএসডি সড়কের খালের উত্তর পাশের রাস্তা) কাজের উদ্বোধন করেন।

অপর দিকে, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উপস্থিতিতে গতকাল কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দুঃস্থ কল্যাণ সংস্থার  উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। বিকালে শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে এবং রাতে কাউখালী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কাউখালী সদর ও আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

এদিকে ভান্ডারিয়া সংবাদদাতা জানান, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। সকালে তিনি নিজ ভাণ্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ভাণ্ডারিয়া ইউপি অফিস-মালিয়ার জিসি ভায়া ভাণ্ডারিয়া বাস স্ট্যান্ড সড়কের বিভিন্ন অংশের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, ইউএনও নাজমুল আলম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন প্রমুখ তার সঙ্গে ছিলেন।