মনিটরিংয়ে কমিটি থাকলেও কার্যক্রম নেই

চট্টগ্রামে প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ১৯৮২ সালে প্রণীত অধ্যাদেশের নীতিমালাও মেনে চলছে না। আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউর চিকিত্সার নামে চলছে ইচ্ছামতো অর্থ আদায়। প্রাইভেট এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলছে কি না তা দেখার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে দুটি ভিজিল্যান্স কমিটি থাকলেও নেই কার্যক্রম। জনবল সংকটে কমিটিগুলোর তদারকি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। প্রাইভেট চিকিত্সা কেন্দ্রগুলোতে প্রায়শই ভুল চিকিত্সায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। ক্ষতিগ্রস্তরা পুলিশ অথবা আদালতের আশ্রয় নিলে চিকিত্সকদের সংগঠনের অনৈতিক চাপে সুবিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফোনে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের মতামত নিয়েও রোগীর চিকিত্সা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বছর ম্যাক্স হাসপাতালে একটি শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি ১১টি অনিয়ম চিহ্নিত করে। কিন্তু বছর না ঘুরতেই গত শনিবার একই হাসপাতালে ভুল চিকিত্সায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে শিশুটির মাতা সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ করেছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত বেসরকারি ৩৪৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ১৩৭টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলছে কি না তদারকির জন্য পৃথক দুটি কমিটি রয়েছে। কমিটি চাইলে জেলা প্রশাসন থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু কমিটিগুলোর এই পর্যন্ত কোনো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া নগরীতে প্রায় সাতটি প্রাইভেট হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউর মতো বিশেষায়িত চিকিত্সা সেবা চালু রয়েছে। বিশেষায়িত চিকিত্সায় নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে অপ্রয়োজনে রোগীকে বিশেষায়িত চিকিত্সার আওতায় নিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করা হচ্ছে। পুরোনো আইনের দুর্বলতার কারণে মুনাফালোভীরা প্রাইভেট চিকিত্সা খাতে অনিয়মের সুযোগ নিচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে ৩৮ বছরের পুরোনো অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, পুরোনো আইনের কারণে অনেকেই সুযোগ নিচ্ছে। তবে অধ্যাদেশটি সংশোধন করে যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। বর্তমান আইনে প্রাইভেট হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিত্সা চালুর জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশনের কোনো বিধান নেই।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির ইত্তেফাককে বলেন, আমি গত ৮ মাসে ১১টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করেছি। বড়ো ধরনের কোনো অনিয়ম পায়নি। ছোটোখাটো কিছু অনিয়ম থাকলেও তা গুরুতর নয়। তবে জনবল সংকটে তদারকি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যে হাসপাতালে তদন্তের জন্য চিঠি পায় সেসব হাসপাতালে আমরা অভিযান পরিচালনা করে থাকি।