প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়াউর রহমান, তার স্ত্রী খালেদা জিয়া, পুত্র তারেক রহমানসহ পুরো পরিবারই খুনি পরিবার। আর খালেদা জিয়া হচ্ছেন সন্ত্রাসের ‘গডমাদার’। যিনি ঠান্ডা মাথায় হরতাল-অবরোধের নামে শত শত জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারেন, এর থেকে বড়ো সন্ত্রাস আর কী হতে পারে? তার (খালেদা জিয়া) মতো বড়ো সন্ত্রাসী আর কে হতে পারে? আর যেন কোনো সুদখোর, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিবাদী, অগ্নিসন্ত্রাসী, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যাকারী ও এতিমের টাকা আত্মসাত্কারীরা ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে জন্য দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বুধবার তার সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় কমিটির বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতিমের টাকা আত্মসাত্ করে আদালতের রায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে তিনি রাজার হালেই রয়েছেন। পৃথিবীর কোনো ইতিহাসে নেই যে আদালত কর্তৃক কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামির সেবা করার জন্য একজন মেইড সার্ভেন্ট দেওয়া হয়। আমরা তা দিয়েছি, কারণ আমাদের কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই। এতে আমরা বিশ্বাসও করি না।’
২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে এই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাস্তবে কী হয়েছে? নির্বাচনের আগে বিএনপি বুঝতে পেরেছে যে তাদের জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই। কারণ দেশের জনগণ তাদের দুঃশাসন ও মানুষ হত্যার কথা ভোলেনি। তাই বিএনপি জেতার জন্য নির্বাচন করেনি, নির্বাচনকে অর্থ বানানোর বাণিজ্য হিসেবে নিয়েছিল। যে যত বেশি অর্থ দিতে পেরেছে, সে মনোনয়ন পেয়েছে। তাই এই নির্বাচন নিয়ে তাদের মুখে কোনো কথা মানায় না।’ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত দাবি করে তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে যে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন, সেটা খুনি রশিদ ও ফারুকের বক্তব্যেই প্রমাণিত। তিনি আরো বলেন, ‘একটা কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের উন্নতি হয়েছে। আজকে আমরা ৮ দশমিক ১৩ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া ৪১ ভাগ দারিদ্র্যের হার আমরা ২১ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি, এই হার আমরা আরো নামিয়ে আনব।’ টেলিভিশনকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেওয়ায় মানুষ কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে এতগুলো টেলিভিশন চ্যানেল, সেটা কে দিয়েছে? এগুলো আমাদের সরকার করেছে। এখানে বিপুলসংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর টকশোতে গিয়ে টক-মিষ্টি কথা বলার সুযোগ মানুষ পাচ্ছে। এত কথা বলতে সুযোগ দেওয়ার পরও অনেকে বলেন আমাদের কথা বলার অধিকার নেই! বলেই যাচ্ছে, তারপরেও পরচর্চা করবে। আসলে এই ধরনের পরচর্চা একধরনের অভ্যাস।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় কমিটির এই সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রতি বছর জাতীয় কমিটির সভা করার কথা থাকলেও আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে প্রায় তিন বছর পর এই সভা অনুষ্ঠিত হলো। সভায় আওয়ামী লীগের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন ছাড়াও আসন্ন কেন্দ্রীয় ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের সম্ভাব্য বাজেটেরও অনুমোদন নেওয়া হয়।