অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দিতে ভারতের মন্ত্রিসভায় বিল পাশ

ভারতে এনআরসি নিয়ে মতবিরোধ বা আতঙ্ক এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল। পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশন সমাপ্তির দিকে। সরকারের লক্ষ্য এই অধিবেশনেই বিলটি পাস করানো। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়াই বিলের প্রধান লক্ষ্য। বিরোধীদের আপত্তি উপেক্ষা করেই বিলটি অনুমোদন পায়। খবর এনডিটিভি ও বিবিসির

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মঙ্গলবার বিজেপি এমপিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, বিলটি ঠিক জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা শেষ করতে ৩৭০ অনুচ্ছেদে বাতিলের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের লক্ষ্য হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সী এই ৬টি সম্প্রদায়কে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া। বিলে নির্বাচিত বিভাগগুলোতে অবৈধ অভিবাসীদের ছাড় দিতে বিদ্যমান আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে বিলটি উপস্থাপন করবেন তখন বিজেপির সমস্ত এমপিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

বিলের আওতার বাইরে যারা :বিবিসি জানায়, বিলটি নিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেখানকার স্বশাসিত ও বিশেষ সুরক্ষাপ্রাপ্ত এলাকাগুলোকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। আর নাগরিকত্ব পেতে ‘কাট-অফ ডেট’ ধরা হয়েছে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর। অর্থাত্ ঐ তারিখের মধ্যে ভারতে আসলেই তারা ভারতের নাগরিক হতে পারবেন। বিতর্কিত বিলের পরিধি থেকে শেষ পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড ও মিজোরামের ইনার লাইন পারমিট এলাকাসমূহ। এখন এই অঞ্চলে যেতে ভারতের অন্য এলাকার নাগরিকদেরও বিশেষ অনুমতি লাগে। তাছাড়া আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় বা মিজোরামের আদিবাসী প্রধান বহু এলাকাও সংবিধানের ষষ্ঠ শিডিউল অনুসারে স্বশাসনের অধিকার ভোগ করে, সেখানেও এই নতুন বিল প্রযোজ্য হবে না।

বিরোধীদের আপত্তি উপেক্ষা

বিরোধীরা বিলটিকে মুসলমানদের বাদ দেওয়াকে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিরোধী পদক্ষেপ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, বাম ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল বিলের বিরোধিতা করেছে। তবে রাজ্যসভায় ভোটাভুটির সময় এআইএডিএমকে’র মতো দলগুলো ঠিক কোনদিকে যায় তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।