দেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। এই অপুষ্টির প্রধান কারণ নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব। পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতে ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। খাদ্য মন্ত্রণালয়কেই এ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার জাতীয় সম্মেলন ২০১৯-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সভাপতি ও পিকেএসএফএর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ, অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও ড. নাজনীন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শাহীন আক্তার ডলি এবং খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ সচিবালয়ের সমন্বয়কারী কানিজ ফাতেমা।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, নাগরিক সমাজের দায়িত্ব সরকারকে তার অঙ্গীকার মনে করিয়ে দেওয়া। ইতিমধ্যে খাদ্যমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের ব্যাপারে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, আমরা তার কার্যকারিতা দেখতে চাই। মোহাম্মাদ মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ বলেন, খাদ্যের পাশাপাশি পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক নজর রাখতে হবে। অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের জন্য নাগরিকদের দিক থেকে ক্রমাগত সংগ্রামের বিকল্প নেই।
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া খাদ্য অধিকার আইনের খসড়ার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, আইনে অধিকারগুলো বর্ণিত থাকবে, অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে যাওয়া যাবে। ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, মৌসুম ভেদে খাদ্যের সংকট দেখা দেয় এবং তখন মূল্যও বাড়ে। সে সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে আমরাই আরো মূল্যবৃদ্ধিতে সহযোগিতা করি। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
কানিজ ফাতেমা বলেন, দেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। প্রতি বছরই এই সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় দেশের মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি।
সম্মেলনে ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’-এর জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগী এবং যুব প্রতিনিধিসহ সাত শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে সাংগঠনিক অধিবেশনে পুনরায় ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে সভাপতি ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ নেটওয়ার্কের নতুন জাতীয় কমিটি গঠিত হয়।