রাজধানীর মিরপুর এলাকা। সোর্স জানায়, ডেরায় মাদক ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়েছে। তাদের সংখ্যা চারের অধিক। তাত্ক্ষণিক অভিযান না চালালে তাদের আটক করা সম্ভব হবে না। খবর পাওয়ার পর অভিযানকারী মাদক টিম পড়ে যায় মহাসংকটে। কারণ চার মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে কমপক্ষে আট সদস্যের টিম প্রয়োজন। কিন্তু তাদের জনবল মাত্র দুই জন। একজন সিপাহি, অন্যজন এএসআই। কিন্তু অভিযান চালানো অতিব জরুরি। অভিযান চালাতে গিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার শিকার হতে হয় এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এমনই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে থাকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের (উত্তর) দুই সদস্যের টিমকে। শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। কিন্তু কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি ছিল গত সপ্তাহের।
প্রসঙ্গত, সময়ের প্রয়োজনে ১৯৯০ সালের ২ জানুয়ারি ‘নারকোটিকস অ্যান্ড লিকার পরিদপ্তরকে বিলুপ্ত করে প্রতিষ্ঠা করা হয় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠার পর কেটে গেছে ২৯ বছর। শুরুতে জনবল ছিল ১ হাজার ২৭৭ জন। তবে বর্তমান সরকার সংস্থাটির গুরুত্বের দিক বিবেচনায় জনবল ও আনুষঙ্গিক সহায়তা বাড়িয়েছে। মঞ্জুরিকৃত মোট জনবলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার। কিন্তু এখনো পুরোপুরি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। অপরদিকে অনেকে অবসরে যাওয়ার কারণে বর্তমানে সংস্থাটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১১তে ঠেকেছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এমনিতেই অধিদপ্তরের জনবলের সংকট দীর্ঘদিনের। কিন্তু অন্যান্য বিভাগীয় শহরের তুলনায় ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের জনবলের অবস্থা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় রয়েছে নাজুক অবস্থায়। আগে যেখানে প্রতিদিন কোনো কোনো এলাকা থেকে উদ্ধার হতো বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য, বর্তমানে সেখানে সপ্তাহেও সেই পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যাচ্ছে না।
অপরদিকে ২০১৩ সালের পর থেকে পাঁচটি বিভাগীয় শহরে (ঢাকা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম) গড়ে উঠেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব ভবন। পরিবর্তন হয়েছে অর্গানোগ্রাম। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ইউনিফর্ম। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নির্মিত হয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের জন্য বহুতল ভবন।
অধিদপ্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ইউনিট ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চল। এটি আগে ছিল ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের একটি বিভাগ। বর্তমানে ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চল দুই ভাগে বিভক্ত। একটি দক্ষিণ, অপরটি উত্তর। তবে দুই বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত পরিচালক। আর মেট্রো উপ-অঞ্চলের প্রতিটি বিভাগে সাতটি সার্কেল। প্রতিটি সার্কেল টিমের সদস্যসংখ্যা থাকার কথা কমপক্ষে ৬ এবং একজন ইন্সপেক্টর। তার অধীনে একজন সাব-ইন্সপেক্টর, একজন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর এবং তিনজন সিপাহি। সে হিসাবে ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের প্রতিটি বিভাগে মোট জনবল ৪২ জন থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে দক্ষিণ বিভাগে জনবল আছে ২৬ জন আর উত্তর বিভাগে ২০ জন।
ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের লোকসংকটের ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সারাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে লোকবল বাড়লেও ঢাকা মেট্রোতে কমেছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেকে অবসরে গেছেন। আবার বেশ কয়েকজন রয়েছেন সারদা পুলিশ একাডেমিতে ট্রেনিংয়ে। তিনি আরো বলেন, আগেও জনবল তুলনার চেয়ে অনেক কম ছিল। তার পরও সীমিত জনবল দিয়ে রাজধানীতে প্রতি মাসে দুই শতাধিক মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে লোকবল কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে কোনো কোনো সপ্তাহ যাচ্ছে মামলাশূন্য অবস্থায়।
জনবলের সংকটের কথা স্বীকার করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, চলতি সপ্তাহে সাব-ইন্সপেক্টর ও সিপাহি পদের নিয়োগসংক্রান্ত পরীক্ষা হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে জনবলের খুব একটা সংকট থাকবে না। ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলে জনবলের সংকটের ব্যাপারে মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তী বদলির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’