সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা অনেক এগিয়েছে। তবে সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রয়ে গেছে। যা অনেক ক্ষেত্রে নারীর অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নারীকে তার অধিকার লড়াই করেই অর্জন করতে হবে। বেইজিং ঘোষণা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা একসূত্রে গাঁথা। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে নারীর প্রকৃত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বেইজিং+২৫ পর্যালোচনা: নাগরিক সমাজের সম্পৃক্তি বিষয়ে জাতীয় সংলাপ’ এর আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এতে সহযোগিতা করে ‘ইউএন উইমেন’। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নারীরা এখন অনেক চ্যালেঞ্জিং পেশায় যুক্ত হয়েছে। তাদের জন্য দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। তবে নারীদের কাজের স্বীকৃতি এখনো দেওয়া হয় না।
নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, নারীর অগ্রগতি হয়েছে তবে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এখনো রয়েছে। যা নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধীকে বিকৃত মানসিকতার বলা হয়। যা অপরাধীকে খুব হালকাভাবে সমাজে উপস্থাপন করে।
দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান বলেন, আমাদের অগ্রগতি হয়েছে তবে তা যথেষ্ট নয়। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে অগ্রগতি এখনো শূন্য। নারী নির্যাতনের ঘটনার বিচারে প্রশাসন এখনো তত্পর নয়। পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতির কারণে অপরাধী পার পেয়ে যায়। নারীকে তার অধিকার লড়াই করেই অর্জন করতে হবে। এই লড়াইয়ে নারী-পুরুষ সকলেই যুক্ত হবে। সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, গত ২৪ বছরে নারীর অগ্রগতি সামান্য। এখনো নারীর প্রতি সহিংসতা সর্বত্র। নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এখনো আছে।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ব্যতীত প্রকৃত মানবাধিকার অর্জন সম্ভব নয়। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন, শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো অসংগতি আছে। বেইজিং ঘোষণা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা একসূত্রে গাঁথা। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে নারীর মানবাধিকার অর্জন সম্ভব নয়।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের গতি ধীর। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার দৃঢ় হতে হবে, পুরুষ সমাজকে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে।
ইউএন উইমেন এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শোকো ইশিকাওয়া বলেন, গার্মেন্টস শিল্পে নারীর অবদানের জন্য বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অনেক উন্নতি করেছে। তবে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি নারীর অগ্রযাত্রায় বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজ কর্মপরিকল্পনাকে ঠিক রেখে ইউএন উইমেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার ২৫ বছরের অর্জন ও চ্যালেঞ্জসমূহ মূল্যায়নের কাজ করে যাচ্ছে।
সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি অভিযানের নির্বাহী পরিচালক বনানী বিশ্বাস, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সাবিত্রী হেমব্রম, ট্রান্সজেন্ডার প্রতিনিধি চৈতী, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি শিখা খাতুন, জাগো ফাউন্ডেশনের কে এইচ মাহবুব প্রমুখ।