দুমকিতে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা!

দুমকিসহ উপকূলীয় এলাকায় উপযুক্ত পরিবেশ, পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার অভাবে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা। পান চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও দুমকিসহ দক্ষিণের প্রত্যন্ত এলাকায় দিন দিন কমে যাচ্ছে পানের বরজ।

উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের জলিশা গ্রামের পান চাষিরা হরিপদ চান হাওলাদার জানান, রোগবালাই পান উত্পাদনের একটি প্রধান অন্তরায়। পানে গোড়া পচা, ঢলে পড়া, পাতা পচা, অ্যানথ্যাকনোজ ও সাদা গুঁড়া ইত্যাদি রোগ দেখা যায়। এর মধ্যে পচন ধরা পানের জন্য একটি মারাত্মক রোগ। গাছের যে কোনো বয়সে এ রোগ হতে পারে। পানের বরজে সাধারণত কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে এ রোগের প্রকোপ মহামারি আকারে দেখা দেয়। পানের রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ফলন অনেকাংশে বৃদ্ধি পেত।

পান চাষি নিরঞ্জন মণ্ডল জানান, পানের বরজ তৈরি করে লতা লাগিয়ে ভালো ফলন পেলেও সার ও কীটনাশক ব্যবহারে পানের রোগ ঠেকাতে পারছেন না তারা। রোগবালাই কিংবা সমস্যা দেখা দিলে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা কিংবা ওষুধ বিক্রেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

তখন কৃষি বিভাগ থেকে কোনো পরামর্শ পান না চাষিরা। তাই পানের বরজ বাদ দিয়ে অন্য ফসল ফলানোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে পান চাষিরা। পান চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন সার, খৈল, বরজ তৈরির বাঁশ ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের মজুরির হার বাড়লেও সেই তুলনায় পানের দাম বাড়ছে না। এতে পান চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এক সময় এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পান চাষ হতো। এই পান এলাকার বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশে রপ্তানি হতো। কিন্তু নানা সমস্যায় পান চাষ দিন দিন কমে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহের মালিকা জানান, পান চাষের ওপর কৃষি বিভাগের কোনো কার্যক্রম নেই। তবে চাষিদেরকে আমরা বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেই। এছাড়াও চাষিদের মধ্যে পান চাষে আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করব।