কক্সবাজারের টেকনাফে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। দাম বাড়তে থাকায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লোকজন জানায়, উপজেলা বাজার মনিটরিং কমিটির তত্পরতার অভাবে এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী এবং আড়তদারের যোগসাজশে তরিতরকারিসহ নিত্যপণ্যের দাম দিন দিন বাড়ছে। ফলে নিম্ন এবং মধ্য আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চরম কষ্ট দেখা দিয়েছে। এদিকে, উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, বর্তমানে কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ টেকনাফ। তবে, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সবজির বাজারে কিছুটা চাপ পড়লেও তা এই সময়ে বাজারে সংকট সৃষ্টির কথা নয়। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সবজিতে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে নিচ্ছেন এমনটি মনে করেন কৃষি বিভাগের লোকজন।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, টম্যাটো প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ফুলকপি জোড়া ১০০ টাকা, কেজিপ্রতি শিম ৮০-১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা, গাঁজর ৯০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৫০ টাকা, পেঁয়াজ ২০০ টাকা, রসুন ১৬০ টাকা, আদা ২০০ টাকাসহ নিত্যপণ্য অস্বাভাবিক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার হ্নীলা মণ্ডলপাড়া এলাকার মাওলানা আনোয়ার হোসাইন এবং মীর কাশেম পুতিয়া জানান, তরকারি ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত দাম নিয়ে নিচ্ছেন। হোয়াইক্যং কাঞ্জরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলাম জানান, মাত্রাতিরিক্ত মূল্যের কারণে বাজার করতেই হিমশিম খাচ্ছি। হ্নীলা ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি বাহাদুর শাহ তপু জানান, কার কথা কে শুনে? টেকনাফের তরিতরকারি ব্যবসায়ীরা যেভাবে পারছে দাম হাকিয়ে যাচ্ছেন।
হ্নীলার আড়তদার মনছুর, দিলদার আহমদ, জাফর এবং সাহাব মিয়া জানান, সারা দেশেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। তাই এখানেও বেশি। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের মতো আড়তদাররা দায়ী নন বলে জানান। তবে, তরকারি ব্যবসায়ী নুর হোসেন, হেলালুদ্দীন, দেলোয়ার, শামসুল আলম, শাহ আলমসহ ভুক্তভোগী লোকজন মূল্য বাড়ানোর জন্য আড়তদারদের দায়ী করেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম জানান, কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ টেকনাফ উপজেলা। এখানকার কৃষকের উত্পাদিত ফসল চাহিদা মিটিয়ে বাইরে পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে কেবল বর্ষা মৌসুমে কিছুটা তরিতরকারির সংকট হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা বাজার মনিটরিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সবজিসহ নিত্যপণ্যের সঙ্গে যারা খেলা করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।