খুবিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির অভিযোগ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষক। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে শিক্ষকরা এ মর্মে একটি স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র দেন।

অভিযোগপত্রে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া তথ্যমতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, অপরাজিতা হল, প্রশাসনিক ভবন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, লাইব্রেরি ভবন, গেস্ট হাউসসহ নতুন ভবন নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। বাকি কয়েক কোটি টাকা ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন তুলে ধরেন। সেই প্রতিবেদনে দেখা যায়, কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবনের ছাদ সাড়ে ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও ছাদের পুরুত্ব ৩ থেকে সাড়ে ৪ ইঞ্চি। ফলে এক বছরের মধ্যেই ভবনের ছাদ, বিম, দেয়ালসহ অসংখ্য জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। তদন্ত কমিটির ভাষ্য অনুসারে, ছাদ নির্মাণে এমন দুর্নীতির কারণে সেই ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ। এই দুর্নীতির কারণ হিসেবে তদন্ত কমিটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অসততা ও অভ্যন্তরীণ প্রকৌশলীদের দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। কিন্তু তারপর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের একজন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মো: নূরুজ্জামান বলেন, কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবনে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী পাঠগ্রহণ করেন। ভবনের নানা জায়গায় দৃশ্যমান ফাটলের কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা শঙ্কিত।

তিনি বলেন, 'আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নেয় তা দেখার জন্য।'

এছাড়া বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নির্মাণের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির চিত্র শিক্ষকরা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায়, দুটি প্রতিষ্ঠানের কোটেড অ্যামাউন্ট এবং  ডিভিয়েশনের হার হুবহু এক (১০.০০০%) হওয়ার পরও টেন্ডার কমিটি বিষয়টি আলোচনায় না এনে  জিকে শামীমের ডিসিএল এন্ড জিকেবিপিএল যেভি এর দরপত্র অনুমোদন করে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংস্থার পক্ষ থেকে দরপত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের সভায় কমিটি দরপত্রটি বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে  ১৮ অক্টোবর সভায় আবারও জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠানেরই দরপত্র অনুমোদন করা হয়।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় প্রযুক্তি ব্যবহারে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পিবিআই

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস বলেন, শিক্ষকরা যেসব সমস্য নিয়ে অভিযোগ করেছেন তার অধিকাংশই পুরাতন এবং এসবের সমাধানও করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষকরা দুর্নীতির বিষয়ে যে অভিযোগ করেছেন তার কোনও ভিত্তি নেই। অর্থ লেনদেন বা দুর্নীতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও জড়িত নয়। এছাড়া দুদকের প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত তাদের হাতে আসেনি।

এদিকে অভিযোগকারী শিক্ষকরা বলেন, প্রশাসন তাদেরকে এসব অভিযোগের আশানুরূপ ব্যখ্যা না দিতে পারলে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।

ইত্তেফাক/নূহু