আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেছেন, উচ্চ আদালতকে জিম্মি করে জামিনের অযৌক্তিক দাবি যারা আদায় করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। জোর করে জামিন নেওয়ার নজির পৃথিবীর কোনো দেশেই নেই। হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আদালতে যুক্তি দিয়ে জামিন নিতে হয়। আমরা কখনোই জামিন নিতে আদালতে বিশৃঙ্খলা করিনি, আইনি লড়াই করে মুক্ত হয়েছি।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জোর করে মানুষের মন জয় করা যায় না। বিএনপি ২০১৪-২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল। গতকাল তারা কোর্টে সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে চেয়েছিল। মুখে চকলেট চিবিয়ে কোর্টের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করে বেগম জিয়ার মুক্তি হবে না। জোর করে জামিন নেওয়া যাবে না। দেশকে অস্থিতিশীল করে নয়, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপিকে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির আইনজীবীরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বারবার ব্যর্থ হয়ে অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। তাই লজ্জা থাকলে তাদের চকলেট খেয়ে অনশন না করে বিষ পান করা উচিত। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও জেলহত্যাকাণ্ডের মূল খলনায়ক হলেন জিয়াউর রহমান। কমিশন গঠন করে এ খলনায়কদের চরিত্র উন্মোচন করতে হবে। নইলে কেউ বুঝতে পারবে না কীভাবে জিয়াউর রহমান পরিকল্পনা করে, রাজনীতি শূন্য করার জন্য ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে এবং জেলখানায় চার নেতাকে হত্যা করেছে। জিয়াউর রহমানের খুনির দল হলো আজকের খালেদা জিয়ার দল।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা সৈয়দ হাসান ইমামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অরুন সরকার রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী তারিন জাহান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।