রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, শিক্ষকদের হতে হবে স্নেহশীল ও অভিভাবকতুল্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে ছাত্র-শিক্ষকের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকা আবশ্যক। প্রকৌশলীদের জ্ঞানের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম ও উন্নত পাঠদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করা হলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আজ গণতন্ত্র মজবুত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চতুর্থ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর মানুষের বাক্-স্বাধীনতা, মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতা রুদ্ধ হয়ে যায়। এই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে বাঙালি জাতিকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার যে লক্ষ্য ছিল তা আজও আমরা পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে একটি তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে রূপকল্প-২০২১ এবং রূপকল্প-২০৪১সহ শতবছর মেয়াদি ব-দ্বীপ ২১০০ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এসব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আজকের শিক্ষিত তরুণরাই এ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একশ্রেণির মজুতদার ও পণ্যে ভেজালকারী মানুষের রক্ত শোষণ করে রাতারাতি বড়োলোক হয়ে যেতে চায়। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এটা ইসলাম ধর্ম যেমন অনুমোদন করে না, অন্যধর্মের কাছেও এই বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখন ধান কাটার মৌসুম। কৃষকদের ঘরে ধান ওঠছে, কিন্তু কৃষকরা ধানের প্রকৃত মূল্য না পেয়ে চিত্কার করছে। অপরদিকে ব্যবসায়ীরা ধান-চালের ওপর মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা দুঃখজনক।
জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে মজুতদার ও ভেজালকারীদের সচেতন করতে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটা তাদের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি সমাজকে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ করার জন্য বিচ্ছিন্নতা পরিহার করে সকলকে আত্মীয়দের খোঁজ-খবর রাখা ও বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানান।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. একে আজাদ চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, পুরোকৌশল অনুষদের ডিন ড. মো. রবিউল আলম, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম, তড়িত্ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দীন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি ও এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি।
সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি ২ হাজার ২৩১ জনকে ডিগ্রি প্রদান করেন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য চার জন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।
রাউজানে ২২ হাজার শিক্ষার্থীর হাতে
টিফিনবক্স তুলে দিলেন রাষ্ট্রপতি
রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, রাউজানে ১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২ হাজার ২৬০ জন খুদে শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে টিফিনবক্স। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে শিশুদের হাতে এসব টিফিনবক্স তুলে দেন। গতকাল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে টিফিনবক্স বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিক্সন চৌধুরী ও অধ্যাপিকা সালসাবিল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি গোলাম ফারুক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ, চুয়েট ভিসি ড. অধ্যাপক রফিকুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুল ওহাব, পাহাড়তলী ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন প্রমুখ।