হালদাভ্যালি গ্রিন টি

ফটিকছড়ির প্রত্যন্ত এলাকা নারায়ণহাটের হালদাভ্যালি চা বাগানে উত্পাদিত গ্রিন টিসহ তিন ধরনের বিশেষ চা রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। চীনের বিখ্যাত ড্রাগন অয়েল গ্রিন টি-ই উত্পাদন হচ্ছে এ বাগানে। সাধারণ চায়ের উত্পাদনের নতুন রেকর্ড গড়ে বাগানটি দেশের সেরা বাগানেরও স্বীকৃতি পায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান,  ২০১৫ সালে হালদাভ্যালি চা বাগানে উত্পাদন শুরু করা হয় গ্রিন টি, হোয়াইট টি ও অর্থডক্স টি। ২০১৭ সালে  চীনে সর্বপ্রথম তিন হাজার কেজি গ্রিন টি রপ্তানি করা হয়। গুণগত মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চীন এ চা কিনে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চীন ছাড়াও  জাপান, জার্মান, দুবাইসহ বিশ্বের বহু দেশে রপ্তানি হয়  বিশেষ  চা। ২০০২ সালে মৃতপ্রায় অবস্থায়  এ বাগানটি ক্রয় করে পেড্রোলো গ্রুপ। অল্প দিনের মধ্যেই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যায় এক সময়ের মৃতপ্রায় এ হালদাভ্যালি। দেশে সাধারণ চা উত্পাদনের রেকর্ড সৃষ্টি করে বাগানটি। চা বোর্ডের পরিসংখ্যান মতে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে হেক্টরপ্রতি  চায়ের গড় উত্পাদন ছিল ১ হাজার ৪৭৭ কেজি, সেখানে হালদা ভ্যালিতে ছিল এর তিনগুণ বেশি। অর্থাত্ ৩ হাজার ৭১৭ কেজি। গত বছরের পরিসংখ্যানও একই। উত্পাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে  ২০১৭ ও ২০১৮ পর পর এ দু্ই বছরই দেশের সেরা বাগানের স্বীকৃতি লাভ করে এটি। এখন গ্রিন টি, হোয়াইট টি ও অর্থডক্স টি’র মতো বিশেষ ধরনের চা তৈরি করে বাগানটির সাফল্যের  সুনাম  দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়েছে।

হালভ্যালি চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদের খান বলেন, ‘রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে অনেকে বিদেশ সফরে গেলে উপহারসামগ্রী হিসেবে হালদাভ্যালির উত্পাদিত বিভিন্ন ধরনের চা নিয়ে যান। এটা আমাদের জন্য অনেক গর্বের ব্যাপার।’ তিনি বলেন, ‘হালদা ভ্যালির গ্রিন টি, হোয়াইট টি ও অর্থডক্স টি  দেশে-বিদেশে অভাবনীয় সাড়া জাগিয়েছে। এতে আমরা আরো বেশি উত্সাহিত হয়েছি। ভবিষ্যতে বিশ্বের কমপক্ষে ৫০টি দেশে বিশেষ ধরনের এই চা রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’ তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ছয়টি আরব দেশের রাষ্ট্রদূত ঢাকাস্থ গুলশানে অবস্থিত হালদাভ্যালি টি লাউঞ্জ পরিদর্শন করেছেন। তারা হালদাভ্যালির তিনটি বিশেষ চায়ের গুণগতমান দেখে খুবই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

হালদাভ্যালি চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাধারণ চা তৈরিতে গাছ থেকে দুইটি কুঁড়ি একটি পাতা সংগ্রহ বা চয়ন করা হয়। কিন্তু গ্রিন টি’র জন্য গাছের সরু শাখা থেকে চয়ন করতে হয় একটি কুঁড়ি  একটি পাতা আর হোয়াইট টি’র জন্য শুধু একটি কুঁড়ি। তিন-চার দিনের এ কুঁড়ির তখন আকার হয় মাত্র ৩ সে.মি.। চয়নের পূর্বে  চা গাছে পানি স্প্রে করে কুঁড়িগুলো পরিষ্কার করা হয়। বাগান থেকে সংগৃহীত কুঁড়ি কারখানার বিশেষ কক্ষে সংরক্ষণ করা হয় আর্দ্রতা কমানোর জন্য। ডি হিউমিডিটি ফায়ার মেশিনের মাধ্যমে ১২ ঘণ্টায় আর্দ্রতা কমিয়ে উপযুক্ত করা হয় পরবর্তী দাপের প্রসেসিংয়ের জন্য। কম্পিউটারাইজ মেশিনে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও প্রেষণের মাধ্যমে আর্দ্রতাহ্রাস করা কুঁড়িগুলো রূপান্তর করা হয় শুকনো গ্রিন টি’তে। 

হাতের স্পর্শ বা কেমিক্যাল প্রয়োগ ছাড়াই তৈরি হয় বিশেষ এ চা। তিনি আরো জানান, চীনের উন্নত জাতের ড্রাগন অয়েল গ্রিন টি-ই হালদাভ্যালিতে উত্পাদন করা হচ্ছে। উত্পাদিত বিশেষ ধরনের এ  চা গুণগত মান পরীক্ষা নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার পরই ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্যাকেজিং করা হয় বাজারজাতকরণের জন্য। হালদাভ্যালি নামেই বাজারজাত করা হয় গ্রিন, হোয়াইট ও অর্থডক্স টি।