কচুরিপানার কারণে কচা নদীর বেকুটিয়া ফেরি চলাচল চার/পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে। গত বুধবার থেকে প্রতিদিনই এ অবস্থা চলছে। ফলে খুলনা-পিরোজপুর-ঝালকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খরস্রোতা কচা নদীতে ভেসে আসা কচুরিপানা ভাটার টানে ঐ নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর প্ল্যাটফরমের সঙ্গে আটকে যায়। আটকাপড়া কচুরিপানার স্তূপ সেতুর প্ল্যাটফরম থেকে শুরু করে বেকুটিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন ছাপিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার নদীপথ এলাকায় বিস্তৃত হয়। বেকুটিয়া ফেরিঘাটের সামনে কচুরিপানা এমনভাবে আটকে থাকে যে ঘাটের পন্টুনে ফেরিযান ও পারাপারকারী যান্ত্রিক খেয়া নৌকা (ট্রলার) ভিড়তে পারে না। গত বুধবার ভাটার সময় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার কারণে সকাল ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। ফলে নদীর দুই পাড়ের ফেরিঘাটের অনেক বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে থাকে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবে কচুরিপানার কারণে এই ফেরিঘাটের যান চলাচল এভাবে বিঘ্নিত হয়। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে গন্তব্যে পৌঁছান। তবে কিছু যাত্রী ট্রলারে করে নদী পার হন। কিন্তু ট্রলারে পার হতে গিয়ে যাত্রীরা আরেক বিড়ম্বনায় পড়েন। সাধারণত ট্রলারের যাত্রীদের ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠানামা করানো হয়। গত তিন দিন তাদেরকে ফেরিঘাট থেকে দূরে নির্মাণাধীন ব্রিজের প্ল্যাটফরমের গোড়া থেকে ওঠানামা করানো হয় বলে খেয়াযাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ফেরিতে যাতায়াতকারী মো. জালালউদ্দিন বলেন, আমি নিয়মিত পথে যাতায়াত করি। কিন্তু গত তিন দিন দুপুরের পর ফেরি চলাচল না করায় অনেক কষ্টে পার হতে হচ্ছে। ফেরির ইজারাদারের ভাড়া সংগ্রহকারী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, গত বুধবার থেকে এ পর্যন্ত প্রতিদিনই চার/পাঁচ ঘণ্টা করে ট্রিপ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে একদিকে আমাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। ভাটার কারণেই কচুরিপানা আটকে যাচ্ছে। তবে দুই একদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।