বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সফলতম কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। পাঁচটি আসরে কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। এর মধ্যে দুবার শিরোপা জিতেছেন এবং বাকি তিনবারই সেরা চারে ছিলেন। এবার বিপিএলে সাত জন কোচের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে কাজ করছেন।
ঢাকা প্লাটুনের হয়ে অভিযান শুরুর আগে নিজের সাফল্য, বিপিএলের সাফল্য-ব্যর্থতা এবং লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন কোচ সালাউদ্দিন।
n দুটি শিরোপা এবং সব কবার কমপক্ষে সেরা চারে থাকা—আপনার এই সাফল্যের রহস্য নিয়েই আলাপ শুরু করা যাক।
আসলে একটা টুর্নামেন্টে তো কোচ একা সাফল্য এনে দিতে পারে না। আমি বলব যে, আমি ভাগ্যবান। কারণ, আমি সবসময় খুব ভালো ফ্রাঞ্চাইজি মালিকদের পেয়েছি। এরকম একটা টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করতে গেলে অনেক স্বাধীনতা দরকার হয়। সেটা পেয়েছি। এছাড়া যখন যে দল পেয়েছি, সেখানে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে দারুণ সমর্থন পেয়েছি। সাফল্য আসে আসলে মালিক থেকে শুরু করে টিম বয়; সবার চেষ্টায়। সেই চেষ্টাগুলো পেয়েছি আমি।
n এবার লিগে একমাত্র বাংলাদেশি কোচ আপনি। দেশি কোচের সংখ্যা এত কম থাকার কারণ কী?
দেখুন, বিপিএলে কখনোই দেশি কোচ বেশি ছিলেন না। গতবারও আমি আর সুজন ভাই (খালেদ মাহমুদ) ছিলাম। সম্ভবত, আমাদেরকে কোচ হিসেবে আরো উন্নতি করতে হবে। যেখানে সুযোগ পাওয়া যায়, আরো সাফল্য আনতে হবে। তাহলে আমাদের ওপর মালিকদের আস্থা বাড়বে। আবার মালিকদেরও ভরসা বাড়াতে হবে। তাদের বুঝতে হবে, দেশি একজন যোগ্য কোচ দেশের দল যত ভালো বুঝবেন, তাই বাইরে থেকে এসে সম্ভব না।
n বিদেশিদের ভিড়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কোচ হিসেবে একটা বাড়তি দায়িত্ব টের পাচ্ছেন?
একটা চ্যালেঞ্জ বলতে পারেন। আমাকে ভালো করতে হবে। আমার ওপর ঢাকা প্লাটুনসের মালিকরা ভরসা রেখেছেন, সেটার প্রতিদান করতে হবে। সেই সঙ্গে আমি ভালো করতে পারলে আমাদের দেশি কোচদের সুনাম আরো বাড়বে বলে আমি মনে করি।
n ঢাকার এবারের লক্ষ্য কী?
অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এখানে সাতটা দল। সবার লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এই ধরনের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে কাগজ কলমের হিসাব কোনো কাজে দেয় না। মাঠে খেলা শুরু হলে দেখা যায়, সবচেয়ে দুর্বল দলটা সবচেয়ে ধারাবাহিক হয়ে উঠেছে। ফলে এখানে সবাই শিরোপার সমান দাবিদার। আমরাও নিজেদের তেমন দাবিদার মনে করছি।
n অন্যান্য ফ্রাঞ্চাইজি লিগ তো দেখে থাকেন। বিপিএল কী আইপিএল বা বিগ ব্যাশের কাছে যেতে পারছে?
সম্ভাবনা তো ছিল। বিপিএলে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের আকর্ষণ তৈরি হচ্ছিল। দলগুলো সেভাবে অফার দিতে পারছিল বিদেশি খেলোয়াড়দের। আশা করি আগামী বছর থেকে আবার ফ্রাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় গেলে সেটা ফিরে আসবে। সেই সঙ্গে অবকাঠামো ও অনুশীলন সুবিধাও বিশ্ব মানের হলে বিপিএলও সেরাদের কাতারে চলে যাবে।
n অনুশীলন সুবিধা আর অবকাঠামোর সমস্যাটা কী?
আমাদের একটা মাঠে, একাডেমির ছোট্ট মাঠটায় ৭টা দলের অনুশীলন করতে হয়। এখানে বিভিন্ন রকম উইকেট বানিয়ে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়ার কোনো সুবিধা নেই। আসলে নিজেদের মতো করে অনুশীলন করারই উপায় নেই। এতে আপনি সেরা প্রস্তুতিটা নিতে পারবেন না। আর তিনটি মাঠে টানা খেলা অবশ্যই উইকেটের ও খেলার মানের জন্য খুব ভালো নয়।
n আইপিএল ভারতকে অনেক তরুণ খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে। বাংলাদেশে সেটা হচ্ছে না কেন?
এই তুলনাটা আসলে হয় না। আইপিএলের দলগুলো বছর ধরে স্কাউটিং করে। ভারতের কোনা কোনা থেকে তারা তরুণদের তুলে আনে। তাদের এনে সারাবছর নিজেদের ক্যাম্পে রাখে। তারা বিশ্বসেরাদের সঙ্গে ট্রেনিং করে। ওদের লম্বা সময় ধরে ক্যাম্প চলে। তার ফসল হয় তরুণ খেলোয়াড়রা। আমাদের দুই মাসের এই কার্যক্রম দিয়ে ওটার সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।