বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, মাদক পাচার প্রধান সমস্যা। গতকাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদায় প্রশাসনিক ভবনে বাংলাদেশের ৯টি জেলার জেলা প্রশাসক এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তসংলগ্ন ছয়টি জেলার জেলা প্রশাসকদের বৈঠকে বিষয়টি উঠে এসেছে।
ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন মালদার জেলা প্রশাসক রাজষী মিত্র, বাংলাদেশের পক্ষে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মহম্মদ জাকির হোসেন। ৬০ জনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিজিবি, বাংলাদেশ পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ছিলেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রাম—এই ৯টি জেলার জেলা প্রশাসকরা বৈঠকে শামিল হয়েছিলেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি জেলার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপাররা বৈঠকে যোগ দেন।
বৈঠকে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত করে তারকাঁটার বেড়া দেওয়া। নদীভাঙন সমস্যা মেটানো, বেআইনিভাবে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র এবং জালনোট পাচার আটকানো, পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ঠেকানো নিয়ে এদিন বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে গরু ও অস্ত্র পাচারের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিষয়গুলো কিভাবে মোকাবিলা করা যায় তারও বিশ্লেষণ করেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বেআইনি মাদক ঢুকছে বাংলাদেশে। তারপর সেখান থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এটা আমরা বুঝতে পারছি। সেটিকে আটকানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফেনসিডিল, গরু পাচার হচ্ছে। এগুলোকে কীভাবে আটকানো যায় তা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি?। পুলিশ, বিএসএফ, বিজিবির সঙ্গে যাতে আরো সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে। দুই দেশের তরফ থেকে একটি রেজুলেশন নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ভারতের প্রতিনিধি দলের হয়ে মালদার জেলা প্রশাসক রাজষী মিত্র বলেন, ডিসি, ডিএম পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। মালদা জেলার যেসব সমস্যা রয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। যার মধ্যে হবিবপুরের নদীভাঙন সমস্যা। দুই দেশেরই তাতে ক্ষতি হচ্ছে। নদীভাঙন ঠেকাতে সেখানে প্রটেকশন ওয়ার্ক করা দরকার।