প্রাণ-প্রকৃতি ও মানুষ রক্ষায় সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে কয়লা বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আগামী বছরের ৩ এপ্রিল ঢাকায় মহাসমাবেশসহ বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় কনভেনশন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু থাকলে রামপালে কয়লাভিত্তিক ও রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ থেকে সরকার অনেক আগেই সরে আসতো। জাতীয় কমিটির আন্দোলনও এতো দীর্ঘ হতো না। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জোয়ার বিষাক্ত জোয়ারে পরিণত হয়েছে। আমাদের পানি বিষাক্ত, নদী বিষাক্ত, বাতাসে শ্বাস নেওয়ার উপায় নেই। বায়ু দূষণ, নদী দূষণে বাংলাদেশ রেকর্ড করছে। সন্ত্রাসে রেকর্ড করছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনে রেকর্ড করছে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য ফের চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি জুড়ে দেশব্যাপী মানববন্ধন, জেলা-উপজেলায় সমাবেশ, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি পালন। মার্চে ফুলবাড়ী থেকে দিনাজপুর পদযাত্রা এবং বিভাগীয় ও উপকূলীয় এলাকায় সমাবেশ। এছাড়াও সেপ্টেম্বরে কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন লং-মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শহীদুল্লাহ। রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং লুনা নূরের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল প্রমুখ।
‘সুন্দরবন ও উপকূল বিনাশী’ কয়লা বিদ্যুত্ এবং ‘দেশবিনাশী’ পারমাণবিক প্রকল্প বাতিল, গ্যাস রপ্তানিমুখী পিএসসি ২০১৯ বাতিল এবং গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে হচ্ছে এবারের সম্মেলন।